প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ৫:০৭ পিএম
কালীগঞ্জের প্রাণ-প্রকৃতিতে পৌঁছে যাচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ছবি ; সময়ের আলো হেমন্তের শুভ্রতা ও ঋতু পরিবর্তনের নান্দনিক ছোঁয়ায় কালীগঞ্জের প্রাণ-প্রকৃতিতে পৌঁছে যাচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। কুয়াশার চাদরে ফিনফিনে ঘোমটা টেনে এসেছে হেমন্ত। যেন সূর্যের আলো লাগলেই ঘুম ভেঙে যায় প্রকৃতির। শিশিরভেজা ভোরে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো বাংলার প্রকৃতি জানান দিচ্ছে হেমন্তের আগমনী বার্তা।
শিউলিঝরা, তারাভরা রাতে হেমন্তের প্রকৃতি লুটিয়ে পড়ে হলুদ ধানের খেতে। অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে বিদায় নিয়েছে শরৎ। এসেছে সেই ঋতু, যার পদধ্বনি বড় শান্ত, কিন্তু যার স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনালি রূপ—প্রিয় হেমন্ত। কার্তিকের প্রথম সপ্তাহে হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতির মুখে উঠেছে কুয়াশার নরম ঘোমটা।
বাংলার চিরায়ত ছয় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত যেন শরৎ ও শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধন। ধানখেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। কিছুদিন পরই পাকতে শুরু করবে আমন ধান। গ্রামীণ জনপদে হেমন্তের আগমনেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর ঝরছে হালকা কুয়াশা। সেই কুয়াশা থাকছে সকাল আটটা-নটা পর্যন্ত।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাদার্তী এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক কাজী কেরামত আলী বলেন, প্রায়ই সকালে হাঁটতে বের হন তিনি। কয়েকদিন ধরে ভোরে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, শীত নেমে এসেছে। রাজধানী ঢাকার আশপাশের জেলা ও থানা শহরগুলোর বাতাসেও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে।
হেমন্তের ভোরের বাতাস জানান দিচ্ছে তার শীতল স্পর্শের কথা। সকালে ঘাসের ডগায় ও শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা সূর্যের সোনালি আভায় মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে। গ্রামের পুকুর ও নদীর ঘাটে নেমে শিশুরা খেলাধুলা করে। কেউ জল ছিটিয়ে হাসে, কেউ শাপলা ছিঁড়ে আনে। দূরে শোনা যায় কাকের কা-কা ডাক, চোখে পড়ে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল।
হেমন্ত ঋতু আমাদের বলে, জীবন বড় সুন্দর, জীবন রঙিন। প্রতিটি মুহূর্তেই লুকিয়ে আছে অপার সম্ভাবনা। হেমন্তের এই নরম আলো আর শীতল হাওয়ায় আমরা যেন নিজেদের নতুন করে খুঁজে পাই।
সময়ের আলো/এনএন