পুঠিয়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, ব্যবস্থা নেই

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার পাশের গাছ যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট

2026-10-22T20:35:51+00:00
2026-10-22T20:35:51+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পুঠিয়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ, ব্যবস্থা নেই
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম 
দুটি স্থানে দুই দফায় ১৪টি বড়ো মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি : সময়ের আলো
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি রাস্তার পাশের গাছ যেন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট দফতরের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। গত এক মাসে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের দুটি স্থানে দুই দফায় ১৪টি বড়ো মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ ঘটনা জানার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ জব্দ কিংবা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত এক মাসের ব্যবধানে জিউপাড়া ইউনিয়নের দুটি সড়কের পাশের গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে জিউপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারুর মোড় এলাকায় পাকা সড়কের পাশ থেকে ১০টি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মনসুর রহমানের ছেলে ও কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান গাছগুলো কেটে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় প্রকাশ্যে গাছ কাটা হলেও কেউ প্রতিবাদ করেননি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপাড়া বাজারের পাশে গত ২১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে সড়কের পাশ থেকে আরও চারটি বড়ো মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়। ধোপাপাড়া গ্রামের শিক্ষক আবু বাক্কার মাস্টারের বিরুদ্ধে গাছগুলো কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রেও স্থানীয়রা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এভাবে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ ইচ্ছেমতো কাটা শুরু হলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে যে কেউ নিজের ইচ্ছামতো গাছ কাটতে উৎসাহিত হতে পারেন।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি গাছ লাগিয়েছি, আমি কেটে নিয়েছি।’ সরকারি রাস্তার পাশ থেকে গাছ কেটে নেওয়া যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশে আমার জমি। আমি রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়েছি, আমি কেটে নিচ্ছি। এখানে কাউকে বলার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

পুঠিয়া উপজেলা বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখন নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।’

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ‘বিষয়টি দেখার জন্য একজন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছি। রাস্তার গাছ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আর ওদের হলে ওরা নিয়ে যাবে।’

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   পুঠিয়া  জিউপাড়া ইউনিয়ন  সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: