গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার-গানাসাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই স্মরণ অনুষ্ঠান। ছবি : সমযের আলোরাজনীতি, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, শ্রমিক আন্দোলন আর নারী সংগঠনের মানুষ একই মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন একজনের কথা বলতে। তিনি গাইবান্ধার রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিনুল ইসলাম গোলাপ। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার-গানাসাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই।’। আয়োজন করে গাইবান্ধা নাগরিক সংগ্রাম কমিটি।
গাইবান্ধা নাগরিক সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মিহির ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিকতু প্রসাদ। সংগীতশিল্পী চুনি ইসলামের একটি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্মরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে মঞ্চে আসেন বক্তারা।
বক্তাদের তালিকা বলে দেয় আমিনুল ইসলাম গোলাপের পরিচয়ের পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও।
শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক মাজহার উল মান্নান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাগীব হাসান চৌধুরী হাবুল, গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার কার্যকরী সভাপতি শাহজাহান খান আবু, অধ্যাপক মমতাজুর রহমান বাবু, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সভাপতি কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, উদীচীর জেলা সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার এবং গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম হানিফ বেলাল।
গণমাধ্যম ও সমাজকর্মীদের পক্ষে কথা বলেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী গোলাম রব্বানী মুসা ও হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, মহিলা পরিষদের সাবেক সভাপতি আমাতুর নূর ছড়া, নারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাজেদা খাতুন কল্পনা, গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সাবেক পৌর মেয়র মো. শামসুল আলম এবং শ্রমিক নেতা রেজাউন্নবী রাজু।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বক্তব্য দেন জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জনি, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা হাসান, ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী, বাসদের ইসরাত জাহান লিপি এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের অ্যাডভোকেট নওশাদুজ্জামান।
পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন আমিনুল ইসলাম গোলাপের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রকিবুর রহমান ডালেস ও জামাতা গোলাম মোস্তফা লালন।
অনুষ্ঠানে আমিনুল ইসলাম গোলাপকে নিবেদন করে কবিতা আবৃত্তি করেন গৌতমাশীষ গুহ সরকার। আলোচনায় প্রয়াত এই নেতার কর্মময় জীবন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলা হয়।
বামপন্থী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও নারী সংগঠন, এত বিচিত্র পরিচয়ের মানুষ এক মঞ্চে এসে একজনকে স্মরণ করেছেন, এটাই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা হলেও আমিনুল ইসলাম গোলাপের প্রতি শ্রদ্ধায় সেদিন সবাই ছিলেন একমত।
শিরোনামের গানের পঙ্ক্তির মতো চোখের সামনে না থাকলেও আমিনুল ইসলাম গোলাপ গাইবান্ধার মানুষের মনের মাঝখানে জায়গা করে আছেন, এক বছর পরের এই আয়োজন যেন সে কথাই আবার মনে করিয়ে দিল।
সময়ের আলো/এনএন