প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ছবি : সংগৃহীতপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৮টি পণ্য ও পণ্যশ্রেণিতে শুল্ক-করছাড় দিয়েছে সরকার। তবে এই সুবিধার প্রভাব বাজারে কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে খেজুর ও ৪৫ ধরনের মসলায় নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরও খুচরা বাজারে দাম না কমায় শুল্কছাড়ের সুফল যাচাইয়ে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক ও কর কমানোর ফলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম কমেছে কি না, তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
চিঠিতে শুল্কের হার পরিবর্তনের পর আমদানি ব্যয়, বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের দামে কী পরিবর্তন এসেছে, তা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব পণ্যে শুল্কের পাশাপাশি মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, সেগুলোর বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক-কর ছাড়ের আওতায় রয়েছে খাদ্যপণ্য, কৃষি উপকরণ, চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধশিল্পের কাঁচামাল, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি, বস্ত্র এবং বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহন।
তবে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মসলাজাতীয় পণ্যের দাম প্রায় আগের মতোই রয়েছে। কিছু পণ্যের দাম বেড়েছেও। ব্যবসায়ীরা এর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, দেশের জ্বালানি সংকট, বন্যা ও অতিবৃষ্টিকে দায়ী করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শুল্ক ও কর কমালেই পণ্যের দাম কমে না। আমদানি ব্যয় হ্রাসের সুবিধা ভোক্তারা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এনবিআরের এই উদ্যোগে শুল্ক ছাড়ের বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে