প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
মালদ্বীপে শাখা খোলা এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি : সংগৃহীতমালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশিদের অর্থ দেশে পাঠানো সহজ ও সাশ্রয়ী করতে ব্যাংকের শাখা খোলা এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশটি থেকে প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈধ পথে অর্থ স্থানান্তর বাড়াতে তিনটি প্রস্তাবও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান গত ৮ অক্টোবর মালদ্বীপ মনিটরি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন। এখন মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে আনার সুযোগ বাড়াতে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক দেশটিতে শাখা খোলার সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে এসেছে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
রেমিট্যান্স পাঠানোর জটিলতা কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের আওতায় স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই, ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট লেনদেনে রুফিয়ার ব্যবহার এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতা পরীক্ষা।
মালদ্বীপে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। তবে স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে অনেক কর্মীকে প্রথমে ডলার কিনে পরে দেশে অর্থ পাঠাতে হয়। এতে কমিশন ও লেনদেনের ব্যয় বাড়ে। ফলে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে ব্যাংক শাখা স্থাপন ও বিকল্প নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে লেনদেনের ব্যয় কমবে এবং বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয় পাঠানো বাড়বে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে