প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১২:৩৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার হুমকির আশঙ্কায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম ও যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটিতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রবেশ করতে পারেননি। সাইটে ঢোকার চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণের একটি নোটিশ ভেসে ওঠে, যেখানে লেখা ছিল— সেবাটি এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই তা আবার সচল করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। মূলত বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ওয়েবসাইটের সুরক্ষা আরও জোরদার করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বলেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট এখনও চালু করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি কবে নাগাদ আবার সচল হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, বহুল প্রচলিত প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ পিএইচপি-তে মারাত্মক কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যালিফ ও উইজ নামের দুটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকেও বৈশ্বিক সাইবার দুর্বলতা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও বড় ধরনের সাইবার হামলার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৬ সালে হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়। সে সময় ওই ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান।
এ ছাড়াও, ২০২৩ সালেও সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ওয়েবভিত্তিক সেবা ৩৬ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখেছিল।
সময়ের আলো/আতা