লক্ষ্মীপূজাকে ঘিরে বরিশালে জমজমাট পূজাসামগ্রীর বাজার। ছবি : সময়ের আলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজাকে ঘিরে বরিশাল নগরীতে জমে উঠেছে পূজাসামগ্রীর বাজার। পূজার অন্যতম উপকরণ কলাগাছের ড্যাম, কলার খোল, ধান, দূর্বা, বেলপাতা, পদ্মফুলসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। উৎসবকে সামনে রেখে এসব সামগ্রী বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নগরীর স্বরোড সড়কের মমতাজ মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে বসেছে পূজাসামগ্রীর বাজার। সেখানে বিভিন্ন উপকরণ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের আনাগোনায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
পূজার সামগ্রী কিনতে আসা গোপাল সরকার বলেন, ‘মা লক্ষ্মীর আরাধনায় এইসব সামগ্রী ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও কিছু অর্থ উপার্জন করবে। দাম তুলনামূলকভাবে কমই আছে।’
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অর্জুন মাঝি গ্রাম থেকে ১৪ জন ব্যবসায়ী পূজার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে নগরীতে এসেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দীপক বেপারী, সুশীল বেপারী, রবিন করাতী, সমীর মাল, নিমাই শিকদার ও আশিক গাইনসহ অন্যরা।
ব্যবসায়ী ঝন্টু বেপারী বলেন, ‘প্রতি বছর লক্ষ্মীপূজার সময় একদিনের জন্য তারা নগরীতে এসে পূজার সামগ্রী বিক্রি করেন।’
আশিক গাইন জানান, তিনি গত ৫ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধান, অশোক, মানকচু, হলুদ ও আফান একসঙ্গে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। এ ছাড়া বেলপাতা ১৫ টাকা, কলাগাছের ড্যাম ২০০ টাকা, কলার খোল ২০ টাকা, নলথুরি ফুল ২০ টাকা, সুপারি ৩৫ টাকা, কলাপাতা ১০ টাকা, কেওড়া ফুল ১০ টাকা, আমপাতা ১০ টাকা, দুর্বা ১০ টাকা, তুলসীপাতা ১০ টাকা এবং পদ্মফুল ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘লক্ষ্মীপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ পূজাকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বিভিন্ন উপকরণের প্রয়োজন হয়। তাই উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীর বাজারগুলোতে এসব সামগ্রীর কেনাবেচা বেড়েছে।’
লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে পূজার প্রস্তুতি চলছে। পূজার উপকরণ কেনাবেচাকে ঘিরে অস্থায়ী বাজারগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
সময়ের আলো/মহু