প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি : সংগৃহীতগণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দলীয়করণের প্রতিবাদে সমাবেশের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়ে গেছে। গণঅভ্যুত্থান তারেক রহমান বেহাত করেছেন। গণঅভ্যুত্থানকে আবার নিজেদের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিএনপি সঙ্গে ছিল, ছাত্রদলের অনেক নেতা আহত-নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক নেতারা বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপসে ছিলেন। তাদের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই। ২০২৬ সালের নির্বাচনে গণভোটে আমরা সবাই মিলে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ’ ভোট হচ্ছে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসেই জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে, গণভোটকে অস্বীকার করেছে। গণভোটকে অস্বীকার করার মাধ্যমে তারা গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে পুরোনো বন্দোবস্তে নিয়ে গিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১৮০০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে গেলে তা ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়, যা কিনা নির্বাচনের পরও ১২০০ টাকা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, পুলিশের দুর্বলতা ছিল, কিন্তু সেই সময় ছাত্র-জনতা সবাই মাঠে ছিলাম এবং দেশের পরিস্থিতি এখনকার মতো এতটা খারাপ হয়নি।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। আজকে সকালেও আমরা দেখেছি যে গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। অর্থাৎ আপনি সমাজের যে স্তরের নাগরিকই হন না কেন, আপনার নিরাপত্তা এই রাষ্ট্রে নেই। এই সরকার তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। এই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দেশে চলতে পারে না।
এসময় বেশকিছু দাবি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যে নাটক চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। যেসব কর্তৃত্ববাদী আইন সংসদে পাস হয়েছে, সেসব আইন পরিবর্তন করতে হবে এবং জুলাইয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সময়ের আলো/আতা