এফবিএম ইটভাটায়। ছবি : সময়ের আলোলক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কৃষিজমি, ফসল ও সড়কের ক্ষতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরহাদ মিয়ার মালিকানাধীন একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে। উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবীয়ার গোছ এলাকায় অবস্থিত ‘এফবিএম (FBM)’ নামের ইটভাটাটি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে চর লরেন্স ও পাশের চর মার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, ইটভাটার কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন এবং ভারী যানবাহনের চাপে এলাকার একাধিক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে ইটভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে। এর ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে চর লরেন্স ইউনিয়ন এবং চর মার্টিন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ফসল হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি কৃষকদের। তাদের অভিযোগ, ধোঁয়ার প্রভাবে গাছপালারও ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইট ও কাঁচামাল পরিবহনে ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রলি ব্যবহারের কারণে সদ্য কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাওলানা মাহে আলম সড়কসহ অন্তত ১০টি সড়ক ভেঙে গেছে। এতে এসব সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
নবী মাঝির বাড়ি, এনায়েত উল্লাহর বাড়ি, আলী আহাম্মদের বাড়ি ও হোসেন মাস্টারের বাড়িসহ আশপাশের এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষ এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ইটভাটার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি। উল্টো অভিযোগ জানানোর কারণে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে থাকতে হচ্ছে তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা নবী মাঝি বলেন, আমার জমি নষ্ট করে ট্রাক্টর চলাচল করে। গাড়ির সুবিধার জন্য আমার দোকানঘর পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না। আমরা অবিলম্বে এই ইটভাটা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
আরেক ভুক্তভোগী নিজাম উদ্দিন বলেন, ধুলাবালির কারণে তার স্ত্রী ও এক বছরের শিশু নিয়মিত জ্বর ও কাশিতে ভুগছে। এ ছাড়া কিছুদিন আগে ইটভাটার শ্রমিকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
স্থানীয় গৃহিণী শিউলি বেগম বলেন, ধুলাবালির কারণে ঘরের খাবার নষ্ট হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইটভাটার মালিক ফরহাদ মিয়া। তিনি বলেন, আমি পরিবেশ রক্ষা করে ও নিয়মনীতি মেনে ইটভাটা পরিচালনা করছি। আমার যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক আছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে।
এদিকে ফসল, সড়ক ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং ইটভাটাটি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
সময়ের আলো/জোই