প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৫ পিএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ১:০৬ পিএম
কোয়ান্টাম কম্পিউটার। ছবি : সংগৃহীত সাধারণ কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে আসছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। এটি কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নীতি মেনে কাজ করা অত্যন্ত শক্তিশালী এক যন্ত্র, যা প্রথাগত কম্পিউটিংয়ের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটার যেভাবে কাজ করে
আমাদের সাধারণ কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা সুপারকম্পিউটার তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য বাইনারি বিট (০ বা ১) ব্যবহার করে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয় ‘কোয়ান্টাম বিট’ বা কিউবিট। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের দুটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। এর মূল চালিকাশক্তি সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গলমেন্ট।
এই দুই বৈশিষ্ট্যের কারণে কিউবিটের সংখ্যা যত বাড়ে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের হিসাব করার ক্ষমতা ও সম্ভাব্য সমন্বয়ের সংখ্যা সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পায়। যেখানে সাধারণ কম্পিউটার একটির পর একটি হিসাব করে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কোটি কোটি হিসাব একসঙ্গে সম্পন্ন করতে পারে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাস্তবায়িত হলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে যেসব পরিবর্তন আসবে—
ওষুধ ও নতুন উপাদান আবিষ্কার : এটি অণু ও পরমাণুর জটিল আচরণ নিখুঁতভাবে অনুকরণ করতে পারে। ফলে জীবনরক্ষাকারী নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, উন্নত উপাদান তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক প্রক্রিয়া আবিষ্কারের পথ দ্রুততর হবে।
সাইবার নিরাপত্তা ও এনক্রিপশন : বর্তমানের প্রচলিত সাইবার এনক্রিপশন ব্যবস্থাগুলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সামনে ভেঙে পড়তে পারে। তবে এর পাশাপাশি এটি সম্পূর্ণ নতুন ও দুর্ভেদ্য ‘কোয়ান্টাম-সুরক্ষিত’ তথ্যপ্রযুক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
জটিল অপটিমাইজেশন ও মহাকাশ গবেষণা : সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিকস, আর্থিক খাতের জটিল পূর্বাভাস এবং মহাকাশ গবেষণার বিশাল ডেটা অ্যানালাইসিসে এটি অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/মহু