ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস। ছবি : সময়ের আলোঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালু হলেও ট্রেনটির যাত্রাবিরতি পাচ্ছে না দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ সাতকানিয়া। এতে সাতকানিয়া ও পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার যাত্রীদের যাতায়াতে ভোগান্তি কমার সুযোগ সীমিত থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করা, সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ট্রেনটির উভয়মুখী যাত্রায় সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবি জানানো হয়েছে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করছে আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস। নতুন এ ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাতায়াতে আরও একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ দাবিতে গত ২৫ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন সাতকানিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবর। আবেদনটি রেলপথ মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। আবেদনে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সুপারিশ রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে সকাল ৮টায় কক্সবাজার ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে ট্রেনটি। নতুন এ রুটে ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করবে মহানগর এক্সপ্রেস।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদনে বলা হয়েছে, সাতকানিয়া ও পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। কিন্তু সাতকানিয়া স্টেশনে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি সীমিত থাকায় তাঁদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। পাশাপাশি নানা ভোগান্তিও পোহাতে হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকার লাখো মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যাত্রীর চাপ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেও রেলসেবাটি ভূমিকা রাখতে পারে।
আবেদনকারী সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বাবর দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মহানগর এক্সপ্রেসের উভয়মুখী যাত্রায় সাতকানিয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি চালু করা জরুরি। এতে সাতকানিয়ার পাশাপাশি লোহাগাড়া ও আশপাশের এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনস্বার্থ ও যাত্রীচাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুত সাতকানিয়া স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করবে। তাদের মতে, এ দাবি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সময়ের আলো/জোই