প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পিএম
তেঁতুলিয়ায় আবার কাঞ্চনজঙ্ঘার মেলা। ছবি : সময়ের আলোসীমান্তঘেঁষা মহানন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলো। সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে উত্তরের দিগন্তে চোখ মেললেই দেখা মেলে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের—তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। নীল আকাশের বিশাল ক্যানভাসে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক চিরন্তন মরীচিকা, যা ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়।
গত কয়েকদিন প্রকৃতি ছিল কিছুটা বিমুখ। ঘন মেঘ আর কুয়াশার চাদরে মুখ লুকিয়ে রেখেছিল এই স্বপ্নের পাহাড়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হৃদয়ে জমেছিল কেবলই আক্ষেপ আর হতাশা। কিন্তু মেঘ-পাহাড়ের সেই লুকোচুরি খেলায় অবশেষে জয় হলো অপেক্ষার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ও গতকাল রোববার ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মেঘের পর্দা ছিঁড়ে উঁকি দিয়েছে রুপালি কাঞ্চনজঙ্ঘা।
ভোর থেকে পাহাড়ের এই আকস্মিক দেখা দেওয়ার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। স্থানীয়দের তোলা ছবি ও ভিডিও দেখে নতুন করে তেঁতুলিয়া অভিমুখে ছুটতে শুরু করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ফলে তেঁতুলিয়ার পর্যটন সেবা কেন্দ্র, আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আবার শুরু হয়েছে ব্যস্ততা।
ভোরের প্রথম কাঁচা সোনা রোদ যখন বরফাবৃত চূড়ায় আলতো স্পর্শ করে, তখন পাহাড়টি উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে এক মায়াবী সোনালি আভায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই রং বদলে রূপ নেয় ধবধবে সাদা রুপালি রঙে। কুয়াশার আবছা আবরণ কেটে প্রকৃতি যখন স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, তখন তেঁতুলিয়ার আকাশ যেন হয়ে ওঠে এক জীবন্ত চিত্রপট।
পর্যটকরা বলছেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাওয়াটা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। মহানন্দার তীরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উত্তরের আকাশে চোখ রেখে অপেক্ষার পর যখন এক চিলতে শুভ্র পাহাড়ের দেখা মেলে, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই বিলীন হয়ে যায়। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে হিমালয়ের এই বিশালত্ব উপভোগ করা এক অমলিন প্রশান্তি।
তেঁতুলিয়ার আকাশে আবারও সেই সোনালি রোদের খেলা শুরু হয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হিমালয় কন্যার এই মায়াবী হাতছানি এখন কেবল একটি ডাকের অপেক্ষায়— ‘চলুন তেঁতুলিয়া!’
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘পর্যটন মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই