চার মাসেই ধসে পড়ল অর্ধকোটি টাকার ড্রেন

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি সুনির্দিষ্ট নিষ্কাশন নালার (ড্রেন) কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় দেয়ালের সিংহভাগ ধসে পড়ে পুরোপুরি

2026-10-26T21:38:20+00:00
2026-10-26T21:38:20+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
চার মাসেই ধসে পড়ল অর্ধকোটি টাকার ড্রেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৮ পিএম 
চার মাসেই ধসে পড়ল অর্ধকোটি টাকার ড্রেন। ছবি : সময়ের আলো
সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি সুনির্দিষ্ট নিষ্কাশন নালার (ড্রেন) কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় দেয়ালের সিংহভাগ ধসে পড়ে পুরোপুরি উল্টে গেছে। সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মধ্যম ঘোড়ামারা ফকিরহাট হাদাগাজী রোড-সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে পড়া ড্রেনের ভগ্নস্তূপের কারণে পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা বর্ষা ও জলাবদ্ধতার এই সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন দুর্ভোগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে ঠেকিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে ও ড্রেনের পাশে স্থাপিত ফলক থেকে জানা যায়, ‘মধ্যম ঘোড়ামারা ফকিরহাট হাদাগাজী রোড-সংলগ্ন বর্ধিত ড্রেন মেরামত’ শীর্ষক প্রকল্পটি সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কারিগরি সহায়তায় সম্পন্ন করা হয়। রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা চুক্তিমূল্যে ড্রেনটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছিল।

এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে গিয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো এত দ্রুত ভেঙে পড়ায় সরকারি তহবিলের অপচয় এবং অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জানান ,শুরুর দিন থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে আসছিল। তাঁদের দাবি, কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকির সুযোগে অত্যন্ত দুর্বলভাবে ড্রেনটি তৈরি করা হয়। ফলে এটি দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়েছে, যা সরকারি টাকার হরিলুট ছাড়া আর কিছুই নয়। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত কাজ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

তবে ড্রেন ধসে পড়ার পেছনে ভিন্ন যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর বাদশা। নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি মূলত এক ধরনের অপপ্রচার।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে তিনি জানান, ড্রেন নির্মাণের পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘর তুলতে গিয়ে বাঁশের খুঁটি পোঁতার চেষ্টা করেন। ওই বাঁশের ধাক্কা লাগার কারণেই মূলত ড্রেনের শক্ত দেয়াল ধসে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রেনের কাজটি করেছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ড্রেন ধসে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   সরকারি অর্থায়ন  ড্রেন  সীতাকুণ্ড  সোনাইছড়ি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: