প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
সংগৃহীত ছবিলাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অভাবনীয় ও নাটকীয় জয় পেয়েছেন ৮০ বছর বয়সি প্রবীণ নেতা লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। নির্বাচনের প্রথম দফায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোর কাছে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয় দফার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন লুলা। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বিজয় শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। খবর আলজাজিরার।
নির্বাচনের প্রথম দফায় অপ্রত্যাশিতভাবে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক গণজাগরণ সৃষ্টি করে লুলার ওয়ার্কার্স পার্টি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে বেকারত্বের হার নেমে আসে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৪ শতাংশে। এ ছাড়া আমাজন অঞ্চলে বনভূমি ধ্বংসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং জাতিসংঘের ক্ষুধার মানচিত্র থেকেও বেরিয়ে আসে দেশটি।
তবে ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদের হার এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তারের কারণে সৃষ্ট সামাজিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ডানপন্থি প্রার্থী বোলসোনারো লুলার বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। তিনি কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন।
লুলার এই বিজয়কে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপমূলক নীতির বিরুদ্ধেও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং ফ্ল্যাভিও বোলসোনারোর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের মুখেও লুলা দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় অবিচল ছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল থেকে এ বার্তা পাওয়া যায় যে লাতিন আমেরিকার মানুষ মার্কিন আধিপত্যের পরিবর্তে নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হন্ডুরাস, চিলি ও বলিভিয়ায় ডানপন্থিদের ধারাবাহিক বিজয়ের পর লুলার পুনর্নির্বাচিত হওয়া লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থি ঢেউয়ের গতি কমিয়ে দিতে পারে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লুদিয়া শেইনবাউমসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য বামপন্থি সরকারের জন্যও তাঁর এই বিজয় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
লুলার এই জয় বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকা মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে— অতি ডানপন্থিদের অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই অনিবার্য কিংবা অপরিবর্তনীয় নয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ