ইসরায়েলি নির্বাচনে আলোচনায় যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

2026-10-26T22:46:07+00:00
2026-10-26T22:46:07+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলি নির্বাচনে আলোচনায় যারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম 
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর বিরোধীদের সামনেও সরকার গঠনের সুস্পষ্ট কোনো পথ তৈরি হয়নি। ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ভোটাররা কোনো ব্যক্তিকে নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেবেন। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার ভিত্তিতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে পার্লামেন্টে আসন বণ্টন করা হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে চরম যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ইরানে বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে এই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে আলোচনায় থাকা প্রধান প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

নব্বইয়ের দশকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ সাল থেকে প্রায় পুরোটা সময়ই ক্ষমতায় রয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনিই ইসরায়েলের প্রধান পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে তিনি অন্যতম মেরুকরণকারী ব্যক্তিত্ব।

সমর্থকেরা তাকে ‘কিং বিবি’ নামে অভিহিত করেন। তাদের মতে, বৈরী প্রতিবেশী পরিবেষ্টিত ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য নেতানিয়াহুর মতো দৃঢ় নেতার প্রয়োজন। তবে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিজ দেশে দুর্নীতির মামলার বিচার চলার মধ্যে তাকে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অবশ্য তিনি উভয় অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী’ ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। জনমত জরিপগুলোতেও তাঁর দল লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। এ ছাড়া ধর্ম ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত তাঁর সরকারের নীতিও অনেক ইসরায়েলিকে ক্ষুব্ধ করেছে।

তবে রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দক্ষ ৭৭ বছর বয়সি নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি একটি ‘বৃহৎ জাতীয়’ সরকার গঠন করতে চান। অন্যদিকে, কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আরও কয়েক মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

নেতানিয়াহুর প্রধান বিরোধীরা

গাদি আইজেনকোট (৬৬)

গাজায় সামরিক অভিযানে নিজের সন্তানকে হারানো সাবেক এই সেনাপ্রধান নিজেকে রাজনীতির বাইরের একজন ব্যক্তি, সৈনিক ও আপসহীন নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর সাধারণ পারিবারিক পটভূমি এবং পরিবারের আত্মত্যাগ নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতায় থাকা ও দুর্নীতির মামলার বিপরীতে একটি ভিন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরে। তিনি ‘যাশার’ নামের একটি নতুন মধ্যপন্থি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হিব্রু ভাষায় ‘যাশার’ শব্দের অর্থ ‘সৎ’ বা ‘ধার্মিক’।

নাফতালি বেনেট (৫৪)

সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডো, নেতানিয়াহুর একসময়ের সহযোগী এবং প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের নাফতালি বেনেট মধ্যপন্থি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। রাজনৈতিক মেরুকরণের দুই প্রান্তে অবস্থান করলেও এই দুই নেতা ২০২১ সালের নির্বাচনে একজোট হয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।

তাঁদের নতুন দলের নাম ‘টুগেদার’, যার অর্থ ‘একত্রে’। দলটি মূলত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জাতিকে সুস্থ করে তোলা এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিচ্ছে।

অ্যাভিগডোর লিবারম্যান (৬৮)

একসময় নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান নেতানিয়াহুর চেয়েও কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে তিনি নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ‘নমনীয় আচরণ’ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে লিবারম্যান নেতানিয়াহুর অন্যতম কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। তাঁর দল ‘ইসরাইল আওয়ার হোম’-এর প্রধান সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা অভিবাসীরা।

ইয়ার গোলান (৬৪)

সাবেক এই জেনারেল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় আক্রান্ত এলাকা থেকে মানুষকে উদ্ধার করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি ‘দ্য ডেমোক্র্যাটস’ নামের একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঐতিহাসিক লেবার পার্টি এবং ছোট বামপন্থি দল মেরেৎজের অবশিষ্টাংশ নিয়ে দলটি গঠিত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর শিবিরের প্রার্থীরা

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ (৪৬) এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির (৫০)—দুজনই কট্টর ডানপন্থি নেতা। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁদের কঠোর নীতির কারণে তাঁরা আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।

স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি দ্রুত সম্প্রসারণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর আশা, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে ‘কবর’ দেওয়া সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ২০০৭ সালে আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী উসকানির দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন বেন-গভির। তিনি দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনি সশস্ত্র বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের জন্য কারাগারের পরিবেশ আরও কঠোর করা এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের সহজে অস্ত্র পাওয়ার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।

স্মোট্রিচ ও বেন-গভির দুজনই গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়ন এবং সেখানে পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অতি-গোঁড়া ধর্মীয় মিত্ররা

রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ এবং ‘শাস’ নামের দুটি অতি-গোঁড়া বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি দলের ওপর নির্ভর করে আসছেন নেতানিয়াহু।

এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে দীর্ঘদিনের ছাড়, কর্মসংস্থানে কম অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা অনেক সাধারণ ইসরায়েলিকে ক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকায় নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব দলের সমর্থন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর বিরোধীদের দিকে বিজয়ের পাল্লা ঝুঁকিয়ে দিতে পারে।

এ দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্বকারী ‘রাম’ ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’। এ ছাড়া ডানপন্থি ‘পিপল অব ইসরাইল’ এবং মধ্য-ডানপন্থি ‘দ্য রিজার্ভিস্টস’ নামের দুটি নতুন দলও রয়েছে। জনমত জরিপে এসব দলের প্রতি সমর্থনের মাত্রা এখনো অনিশ্চিত।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ 
  বিষয়:   ইসরায়েল  নির্বাচন 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: