প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
সংগৃহীত ছবিবাংলা লোকসংগীতের অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দিনের আজ ১২৫তম জন্মদিন। ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’, ‘আমার হাড় কালা করলি’, ‘মাঝি বাইয়া যাও’ ও ‘সোনা বন্ধু কোন দেশে’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের মাধ্যমে তিনি বাংলার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ভাওয়াইয়া, চটকা, ভাটিয়ালি ও মুর্শেদী গানের জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত। এ ছাড়া কাজী নজরুল ইসলামের বহু কালজয়ী ইসলামি গানও প্রথম তাঁর কণ্ঠেই রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’।
আব্বাসউদ্দিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বললামপুর স্কুলে। ১৯২১ সালে কোচবিহার কলেজ থেকে আইএ পাস করলেও বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে তিনি সংগীতজগতে প্রবেশ করেন। কয়েক দিন ওস্তাদ জমিরউদ্দিন খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গসংগীতের তালিম নেন। রংপুর ও কোচবিহার অঞ্চলের ভাওয়াইয়া গান গেয়ে প্রথম সুনাম অর্জন করেন আব্বাসউদ্দিন। পরে জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শেদী, বিচ্ছেদী, দেহতত্ত্ব, মর্সিয়া ও পালাগানসহ বিভিন্ন ধারার গান গেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। দরদভরা সুরেলা কণ্ঠে পল্লিগানের সুর যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা আজও অতুলনীয়।
কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন ও গোলাম মোস্তফাসহ বিশিষ্ট কবিদের ইসলামি ভাবধারায় রচিত গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন আব্বাসউদ্দিন। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রে। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বিষ্ণুমায়া’, ‘মহানিশা’, ‘একটি কথা’ ও ‘ঠিকাদার’। ‘ঠিকাদার’ সিনেমায় তিনি একজন কুলির ভূমিকায় অভিনয় করেন। এসব সিনেমায় গানও গেয়েছিলেন তিনি।
‘আমার শিল্পী জীবনের কথা’ আব্বাসউদ্দিনের লেখা একমাত্র গ্রন্থ। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মরণোত্তর শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তাকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারেও ভূষিত করা হয়। ১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আব্বাসউদ্দিনের সুযোগ্য কন্যা কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌসী রহমান বলেন, ‘আব্বার কথা বলে শেষ করা যাবে না। তিনি আমার শিক্ষাগুরু, বন্ধু ও পথপ্রদর্শক।’ তার আরেক সুযোগ্য পুত্র মোস্তফা জামান আব্বাসীও ভাওয়াইয়া গানের একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী।
আব্বাসউদ্দিনের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ শিরোনামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ