টার্ফ। ছবি : সংগৃহীত ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে ফুটবল কিংবা ইনডোর ক্রিকেট খেলার জন্য খোলা মাঠ পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ। বন্ধুদের নিয়ে ফুটবল ম্যাচ, অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ কিংবা সপ্তাহান্তে ক্রিকেট—সবকিছুর জন্যই তৈরি হয়েছে নানা স্পোর্টস অ্যারেনা। মিরপুর থেকে আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর থেকে বসুন্ধরা— বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এসব টার্ফ তরুণকে অবসর বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মাঠভেদে ভাড়া, খেলার সময়, সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশে রয়েছে পার্থক্য। খেলার পরিকল্পনা করার আগে তাই জেনে নেওয়া প্রয়োজন কয়েকটি বিষয়।
মিরপুরের সাগুফতা এলাকায় ডিবক্স স্পোর্টস কমপ্লেক্স বেশ পরিচিত। এখানে ইনডোর ও আউটডোর— দুই ধরনের মাঠেই ফুটবল খেলার সুযোগ রয়েছে। ৯০ মিনিটের স্লটের ভাড়া সাধারণ দিনে ৩ হাজার এবং রাতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ছুটির দিনে ভাড়া আরও বাড়ে। ফ্লাডলাইট ও দুই ধরনের মাঠ থাকায় এটি সুবিধাজনক। তবে রাতের স্লটে খরচ তুলনামূলক বেশি। মিরপুরের দ্য বাবলস, টেস্ট টার্ফ ও অফসাইড মিরপুরও খেলার জন্য বিবেচনায় রাখা যায়। তবে বুকিংয়ের আগে মাঠের বর্তমান ভাড়া, স্লটের দৈর্ঘ্য এবং ইনডোর ক্রিকেটের ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মোহাম্মদপুরের ফিউচার টাউন এলাকায় গোসেভেন টার্ফে ৫ থেকে ৯ জনের ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা যায়। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খেলার সুযোগ রয়েছে। ৯০ মিনিটের স্লটে দিনের ভাড়া ৩ হাজার এবং সন্ধ্যা ও রাতে ৪ হাজার টাকা। বড় দল নিয়ে খেলতে চাইলে এটি বিবেচনায় রাখা যায়।
অন্যদিকে হাজারীবাগের ঢাকা টার্ফ, ডিএসএফ ধানমন্ডি/ হাজারীবাগ ও রিভারশোর স্পোর্টস অ্যারেনা স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য সম্ভাব্য বিকল্প। তবে এসব মাঠের বর্তমান ভাড়া ও সুযোগ-সুবিধার নির্ভরযোগ্য তথ্য সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তাই সরাসরি যোগাযোগ করে জেনে নেওয়াই ভালো।
আফতাবনগরে রয়েছে এনফিল্ড জোন, ফুটসাল হাইভ, টাইম আউট স্পোর্টস অ্যারেনা, কিক ও ইস্ট কোর্ট অ্যারেনা। এর মধ্যে ফুটসাল হাইভে ৬-এ-সাইড ফুটবল খেলা যায়। ৯০ মিনিটের স্লটের ভাড়া দিনের নির্দিষ্ট সময়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং বিকাল ও রাতের ব্যস্ত সময়ে ৩ হাজার টাকা। দীর্ঘ সময় খোলা থাকার সুবিধাও রয়েছে। আফতাবনগরের আরেকটি বিকল্প ট্যাকল গ্রাউন্ড। এখানে ৯০ মিনিটের স্লটে সপ্তাহের কর্মদিবসে দিনের ভাড়া ২ হাজার ৪০০ এবং বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৩ হাজার ৪০০ টাকা। শুক্রবার ও শনিবার ভাড়া যথাক্রমে ২ হাজার ৯০০ ও ৩ হাজার ৯০০ টাকা। মাদানী অ্যাভিনিউয়ের সাতারকুলে কোর্টসাইড ও গ্রিনভিল ফুটসাল খেলার জন্য বিবেচনা করা যায়। তবে এখানে মাঠভাড়া, স্লট ও বুকিংয়ের শর্ত আগে জেনে নেওয়া উচিত।
তেজগাঁও শিল্প এলাকায় টার্ফ নেশন ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই ধরনের খেলার ব্যবস্থা রেখেছে। এর অনলাইন তালিকায় ফুটবলের মাঠপ্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং শর্ট-পিচ ক্রিকেটের ভাড়া ২ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ফ্লাডলাইটের সুবিধাও রয়েছে।
বসুন্ধরার টপ টার্ফ ও অফসাইড বসুন্ধরা, উত্তরার দিয়াবাড়ীতে গ্যালাক্টিকোস স্পোর্টস প্যাভিলিয়ন, পুরান ঢাকার ওয়ারীতে প্লেয়ার্স অ্যারেনা, সেনানিবাসের মাটিকাটা রোডে ভোল্টা ক্লাব এবং সবুজবাগের ড্রিবল এক্সের মতো মাঠও খোঁজ নিতে পারেন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ভাড়া ও সুবিধা সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন।
সাধারণত ৯০ মিনিটের একটি সেশনের ভাড়া প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে। ১০-১২ জন মিলে খেললে জনপ্রতি খরচ দাঁড়ায় আনুমানিক ২০০-৫০০ টাকা। সন্ধ্যা ও ছুটির দিনের স্লটে ভাড়া বেশি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
টার্ফের সুবিধা হলো নির্দিষ্ট সময়ে মাঠ পাওয়া, কৃত্রিম ঘাসে নিয়মিত খেলার সুযোগ এবং অনেক জায়গায় ফ্লাডলাইটের ব্যবস্থা। কিছু মাঠে ছাদ থাকায় বৃষ্টি বা রোদের মধ্যেও খেলা যায়। তবে সব টার্ফে ছাদ, ড্রেসিংরুম, পার্কিং কিংবা ক্রিকেটের উপযোগী নেট থাকে না। কৃত্রিম ঘাসের মান ও রক্ষণাবেক্ষণও মাঠভেদে আলাদা।
বুকিংয়ের আগে করণীয় : খেলার স্লট কত মিনিট, ভাড়ায় আলো ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত কি না, অগ্রিম টাকা ফেরতযোগ্য কি না এবং ক্রিকেট খেলার উপযোগী ব্যবস্থা আছে কি না, নিশ্চিত করুন। এতে খরচ ও সময়— দুটিই বাঁচবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি