দাদুড়িয়ায় শতবর্ষী পলো বাওয়া উৎসব

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

কয়েক দিন ধরে চলে প্রস্তুতি। কেউ জাল ঠিক করে রাখেন, কেউবা নতুন পলো কিনে আনেন। ভোর হতেই পলো, হুসা ও

2026-10-27T22:58:11+00:00
2026-10-27T22:59:18+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
দাদুড়িয়ায় শতবর্ষী পলো বাওয়া উৎসব
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম  আপডেট: ২৭.১০.২০২৬ ১০:৫৯ পিএম
বোয়ালমারীর দাদুড়িয়া বিলে মাছের স্বল্পতায় পলো বাওয়া উৎসবে এবার আনন্দের চেয়ে হতাশাই ছিল বেশি
কয়েক দিন ধরে চলে প্রস্তুতি। কেউ জাল ঠিক করে রাখেন, কেউবা নতুন পলো কিনে আনেন। ভোর হতেই পলো, হুসা ও জাল হাতে বিলে নামেন বিভিন্ন বয়সের শত শত মানুষ। কারও ইচ্ছা মাছ ধরা, কারও কাছে এটি বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখার আয়োজন। অনেকেই ফিরেন অল্প কিছু মাছ নিয়ে, কেউবা একেবারেই খালি হাতে। মানুষের ভিড়ে উৎসবের আমেজ থাকলেও মাছের স্বল্পতায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদুড়িয়া বিলের পলো বাওয়া উৎসবে এবার আনন্দের চেয়ে হতাশাই ছিল বেশি। শত বছর ধরে এ উৎসব চলে আসছে এ বিলকে ঘিরে। বিভিন্ন এলাকার মানুষ অপেক্ষায় থাকেন এ উৎসবের জন্য।

মাছ ধরার এ আয়োজনে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মাছ শিকারি ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে দাদুড়িয়া বিলপাড়। কেউ কাঁধে পলো, কেউ হাতে হুসা, আবার কেউ জাল নিয়ে মাছ ধরতে নামেন বিলে। পানিতে পলো চেপে মাছ ধরার চেষ্টা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে চলা, কারও পলো কিংবা জালে মাছ ধরা পড়লে হুল্লোড় আর পরিচিতদের সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটে তাদের। তবে উৎসবের মূল আকর্ষণ মাছ শিকারেই ছিল হতাশা।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, একসময় এ বিলে শিং, মাগুর, কই, বাইম, শোল, টাকি, পুঁটি, মলা ও ঢেলাসহ নানা দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর আগের মতো মাছ মেলে না। এবারের আয়োজনেও সেই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পবিত্র কুমার দাস বলেন, দাদুড়িয়া বিলে দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো জরিপ নেই। মাছের প্রজনন ও পোনা রক্ষায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন এই সরকারি কর্মকর্তা।


গুনবহা গ্রামের মিকাইল জানান, বাবা-দাদার সময় থেকে চলে আসা ঐতিহ্য ধরে রাখতেই পলো ও হুসা নিয়ে বিলে এসেছেন। তবে এবার আশানুরূপ মাছ পাননি। তার অভিযোগ, চায়না দুয়ারি জালের অতিরিক্ত ব্যবহার দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এভাবে মাছ কমতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো পলো বাওয়া উৎসবের কথা শুনবে, কিন্তু তা দেখার সুযোগ পাবে না।

মাছ ধরতে আসা বোয়ালমারীর ছোলনা এলাকার হানিফ শেখ ও বিল্লাল মাতুব্বর জানান, বিলে মাছ ধরতে এসে তারা হতাশ। কেউই তেমন কোনো মাছ পাননি। কয়েকজন ছোট কিছু মাছ পেলেও বেশিরভাগই ফিরেছেন খালি হাতে। আলফাডাঙ্গার ইনায়েতুর রহমান বলেন, মাছ ধরতে নয়, সবার সঙ্গে মজা করতেই এই বিলে আসা। তবে আমার আক্ষেপ এতবড় বিলে কোনো মাছ না থাকায়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসকে
  বিষয়:   দাদুড়িয়া  শতবর্ষী  পলো বাওয়া  উৎসব  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: