প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
নিহত হাবিবুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত যশোরের শার্শা উপজেলায় একই পরিবারে নেমে এসেছে শোক ও নতুন প্রাণের আগমনের দুই বিপরীত অনুভূতি। স্বামী হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন স্ত্রী মিম খাতুন। স্বামীর মৃত্যুর খবর না জেনেই সন্তান জন্ম দেন তিনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের কন্যাদাহ গ্রামে।
নিহত হাবিবুর রহমান (২৫) ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। তার স্ত্রী মিম খাতুন (১৭) পাশের সেতাই গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে। হাবিবুর বেনাপোল বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর তীব্র জ্বর ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে বাগআঁচড়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি হন হাবিবুর। অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে রাজধানীর মগবাজারের রাজমনু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, স্বামী ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় প্রসববেদনা নিয়ে শার্শার বাগআঁচড়া নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি হন মিম। সেদিনই তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের ১৫ মিনিট পর স্বামীর মৃত্যুর খবর আসে। প্রসূতির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিষয়টি জানাননি।
হাবিবুরের বাবা হযরত আলী বলেন, ‘আমার বুকজুড়ে আজ শুধু শূন্যতা। একদিকে আমার আদরের ছেলেটা চলে গেল না-ফেরার দেশে, অন্যদিকে আমার ঘরে এল নতুন প্রাণ। এই আনন্দ কীভাবে নেব, বুঝতে পারছি না। আমার এতিম নাতিটার দিকে তাকালেই বুক ফেটে কান্না আসে।’
একই পরিবারে মৃত্যু ও নতুন শিশুর জন্মের ঘটনায় কন্যাদাহ গ্রামেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা শোকসন্তপ্ত পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সোমবার সকাল ১১টায় হাবিবুর রহমানের জানাজা শেষে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সময়ের আলো/কেএইচও