ঘুরে আসুন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। ১৯৭১ সালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত

2026-10-28T10:17:20+00:00
2026-10-28T10:31:26+00:00
 
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
ঘুরে আসুন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ এএম  আপডেট: ২৮.১০.২০২৬ ১০:৩১ এএম
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। ছবি : সময়ের আলো
মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। ১৯৭১ সালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের অভিযানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহিদ হন তিনি। তাই সেখানে তার স্মৃতিতে নির্মাণ করা হয়েছে সৌধ। সারা বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এই স্মৃতিসৌধ দেখতে আসেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে শহিদ হওয়া এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তার জন্ম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে।

১৯৭১ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত এলাকায় মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছিল। চারদিকে চা-বাগানঘেরা এই সীমান্ত ফাঁড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর শহরে ছিল মুক্তিবাহিনীর একটি সাব-সেক্টর ক্যাম্প। প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানির সদস্য হিসেবে ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের অভিযানে অংশ নেন হামিদুর রহমান।

স্মৃতিসংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার। ছবি : সময়ের আলো

স্মৃতিসংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার। ছবি : সময়ের আলো


২৮ অক্টোবর ভোররাতে লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানে চারদিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হয়। অভিযানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। তীব্র গোলাবর্ষণে শত্রুপক্ষের ক্যাম্পে আগুন ধরে গেলেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই দায়িত্ব পড়ে সিপাহি হামিদুর রহমানের ওপর। পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে এগিয়ে গিয়ে তিনি মেশিনগান পোস্ট লক্ষ্য করে দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। গ্রেনেড দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থাতেই মেশিনগান পোস্টে পৌঁছে দুই পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে হাতাহাতি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে পোস্টটি অকার্যকর করে দেন হামিদুর রহমান। তার এই আত্মত্যাগে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। পরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে সীমান্ত ফাঁড়িটি দখল করেন। তবে, বিজয় দেখে যেতে পারেননি হামিদুর রহমান। ফাঁড়ি দখলের পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন সহযোদ্ধারা।

স্মৃতিসংগ্রহশালার ভেতরের দৃশ্য। ছবি : সময়ের আলো

স্মৃতিসংগ্রহশালার ভেতরের দৃশ্য। ছবি : সময়ের আলো


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর

প্রথমে সীমান্তের অদূরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হাতিমেরছড়া গ্রামের একটি পরিবারের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। স্বাধীনতার ২০ বছর পর ১৯৯২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ধলই চা-বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তার স্মরণী উদ্বোধন করেন সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির পক্ষে (তৎকালীন বিডিআর) লে. কর্ণেল মো: বজলুল করিম একটি নামফলক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেন। পরে ২০০৩ সালে ৩০ এপ্রিল ধলই চা-বাগানের ধলই বিওপি সংলগ্ন ৭৪ শতাংশ জমির উপর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান।

পরবর্তীতে সেই স্মৃতিসৌধ উন্নয়ন করা হয় ও তার পাশে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির বর্তমান ক্যাম্পের সামনে রয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহী হামিদুর রহমান’ স্মৃতি আর্কাইভ। সেখানে প্রদর্শিত হয়েছে তার ছোটবেলার ছবি, আছে তার পারিবারিক তথ্য ও ছবি। এছাড়া, ভানুগাছ চৌমুহনী হতে মাধবপুর ও পাত্রখোলা প্রধান সড়ককে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়ক নামকরণ করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। ছবি : সময়ের আলো

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। ছবি : সময়ের আলো


স্থানীয় সাংবাদিকদের লিখিত আবেদন ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) একটি দল ত্রিপুরা সীমান্তে তার দেহাবশেষ গ্রহণ করে। পরে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে তা বাংলাদেশে আনা হয়। ১১ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনরায় দাফন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে।

কীভাবে যাবেন স্মৃতিসৌধে?

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে যেতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় যেতে হবে। ঢাকা থেকে সরাসরি সড়ক ও রেলপথে কমলগঞ্জ আসা যায়। ঢাকার ফকিরাপুর কিংবা সায়েদাবাদ থেকে হানিফ, শ্যামলী, এনা ও সিলেট পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেটগামী জয়ন্তিকা, উপবন বা পারাবাত এক্সপ্রেস ট্রেনেও কমলগঞ্জ যাওয়া যায়। কমলগঞ্জ ভানুগাছ রেলস্টেশন হতে স্থানীয় পরিবহনে (সিএনজি, রিকশা) চড়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধে যেতে পারবেন।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান  স্মৃতিসৌধ  কমলগঞ্জ  মৌলভীবাজার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: