কোন কোন প্রাণীকে দৌড়ে হারাতে পারে মানুষ?

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

অনেক প্রাণীই অল্প সময়ে মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে দৌড়াতে পারে। তবে, ছোট দূরত্বে দ্রুত দৌড়ানো ও দীর্ঘ সময়

2026-10-27T19:32:15+00:00
2026-10-27T19:35:53+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬,
১১ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
কোন কোন প্রাণীকে দৌড়ে হারাতে পারে মানুষ?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩২ পিএম  আপডেট: ২৭.১০.২০২৬ ৭:৩৫ পিএম
অনেক প্রাণীই অল্প সময়ে মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে দৌড়াতে পারে। ছবি : বিবিসি
অনেক প্রাণীই অল্প সময়ে মানুষের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে দৌড়াতে পারে। তবে, ছোট দূরত্বে দ্রুত দৌড়ানো ও দীর্ঘ সময় ধরে একই গতি বজায় রাখা এক বিষয় নয়। এই পার্থক্যই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দৌড়ের ক্ষমতা নিয়ে তৈরি করেছে মজার এক বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন- কোন কোন প্রাণীকে দৌড়ে হারাতে পারে মানুষ?

বিবিসি ফিউচারের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন প্রাণীর দৌড়ের গতি বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে মানুষ কিছু প্রাণীর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে এবং কোন প্রাণীর কাছে হার মানতে হয়। গবেষকদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, প্রাণীর শরীরের আকার, পেশির ধরন, ত্বরণ এবং কতক্ষণ গতি ধরে রাখতে পারে, এসব বিষয় দৌড়ের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


ছোট দূরত্বে কোন প্রাণীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবেন?

মানুষের দৌড়ের ক্ষমতা প্রাণীদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, স্বল্প দূরত্বে অনেক প্রাণীর গতির কাছে মানুষ বেশ পিছিয়ে। তবে, শুধু সর্বোচ্চ গতি দিয়ে দৌড়ের প্রতিযোগিতার ফল নির্ধারণ করা যায় না। কোনো প্রাণী কত দ্রুত গতি তুলতে পারে এবং কতক্ষণ সেই গতি ধরে রাখতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে মানুষের পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ের সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাণীর সর্বোচ্চ গতির তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পাঁচ কিলোমিটার দৌড়াতে ৪০ মিনিট লাগলে মানুষের গড় গতি বনভূমিতে বসবাসকারী ভোল নামের ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর সর্বোচ্চ গতির কাছাকাছি থাকে। একই দূরত্ব ৩০ মিনিটে অতিক্রম করতে পারলে সেই গতি ইঁদুর বা হ্যামস্টারের সর্বোচ্চ গতির সঙ্গে তুলনীয় হয়।

আর ২৫ মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার দৌড়াতে পারলে মানুষের গড় গতি ঘরের ইঁদুর বা সামুদ্রিক ইগুয়ানার নথিভুক্ত সর্বোচ্চ গতির কাছাকাছি পৌঁছায়। ২০ মিনিটে দূরত্বটি অতিক্রম করলে স্কাঙ্ক বা গ্রাউন্ডহগের সঙ্গে গতির তুলনা করা যায়।

তবে, এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি- প্রাণীদের ক্ষেত্রে সাধারণত অল্প সময়ের জন্য অর্জিত সর্বোচ্চ গতি উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্বে গড় গতির হিসাবও ব্যবহার করা হয়। তাই এসব তুলনাকে সরাসরি দৌড় প্রতিযোগিতার ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়।


হাতির সঙ্গে কি দৌড়ে পেরে উঠবেন?

শুনতে অবাক লাগলেও স্বল্প দূরত্বের দৌড়ে কিছু মানুষের সঙ্গে হাতির প্রতিযোগিতা জমে উঠতে পারে। আফ্রিকান বুশ এলিফ্যান্ট ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। তবে, এই গতি অর্জন করতে হাতির কিছুটা সময় লাগে। বিশাল শরীরকে দ্রুত গতিতে নিয়ে যেতে প্রয়োজন হয় বেশি শক্তি।

প্রাণীদের ত্বরণ নিয়ে গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে করা একটি আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, হাতির ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে প্রায় ৭ দশমিক ৫ সেকেন্ড লাগতে পারে। সে হিসাবে ১০০ মিটার দৌড়াতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১৪ সেকেন্ড। ফলে, প্রশিক্ষিত কিছু দৌড়বিদ খুব স্বল্প দূরত্বে হাতির সঙ্গে গতির প্রতিযোগিতায় টিকে যেতে পারেন।

তবে, এটি সরাসরি প্রতিযোগিতায় প্রমাণিত কোনো ফল নয়। হাতির প্রকৃত গতি, দৌড়ের পরিবেশ এবং হিসাবের পদ্ধতি অনুযায়ী ফল ভিন্ন হতে পারে।

উসাইন বোল্টের চেয়েও দ্রুত যেসব প্রাণী

১০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বরেকর্ডধারী উসাইন বোল্টের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু প্রাণিজগতে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে, যাদের সর্বোচ্চ গতি এই সীমাকেও ছাড়িয়ে যায়।

চিতা : ঘণ্টায় প্রায় ৯৩ কিলোমিটার। স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম দ্রুতগতির এই প্রাণী অল্প সময়ের জন্য এমন গতি অর্জন করতে পারে। শিকার ধরার সময় তাদের দৌড়ের দূরত্বও প্রায়ই ২০০ মিটারের কম থাকে।

উটপাখি : ঘণ্টায় প্রায় ৮৩ কিলোমিটার। লম্বা পা দিয়ে বড় বড় পদক্ষেপে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে উটপাখি। ফলে, স্বল্প দূরত্বে তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া মানুষের জন্য কঠিন।

জিরাফ : ঘণ্টায় প্রায় ৫৭ থেকে ৬০ কিলোমিটার। লম্বা পা ও বড় পদক্ষেপের কারণে দ্রুত দৌড়াতে পারে এই প্রাণী। এর সর্বোচ্চ গতি বোল্টের নথিভুক্ত গতির চেয়েও বেশি।

জেব্রা : ঘণ্টায় প্রায় ৭১ কিলোমিটার। বিপদের মুখে দ্রুত ছুটতে পারে জেব্রা। তাই স্বল্প দূরত্বের দৌড়ে মানুষের পক্ষে তাকে হারানো প্রায় অসম্ভব।

এসব গতি বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া আনুমানিক সর্বোচ্চ গতির হিসাব। সব প্রাণী সব পরিস্থিতিতে বা একই দূরত্বে এই গতি ধরে রাখতে পারে না।


ভালুক, গন্ডার ও হরিণের গতিও কম নয়

কালো ভালুক ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে পারে। গ্রিজলি ও মেরু ভালুকের সর্বোচ্চ গতিও ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়। ফলে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব প্রাণীর সঙ্গে গতিতে পাল্লা দেওয়া কঠিন।

সাদা গন্ডারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এই গতি বোল্টের সর্বোচ্চ গতির চেয়ে কম হলেও সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি।

আবার হরিণজাতীয় কিছু প্রাণীও অত্যন্ত দ্রুত দৌড়াতে পারে। রেইনডিয়ারের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, প্রাণী আকারে বড় হলেই সেটি ধীরে দৌড়াবে- এমন ধারণা সঠিক নয়।

তবে, ভালুক বা অন্য কোনো বন্য প্রাণীর মুখোমুখি হলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে প্রাণীটি তাড়া করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ভর করে প্রাণীর প্রজাতি ও পরিস্থিতির ওপর। তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

দীর্ঘ দূরত্বে মানুষ কী এগিয়ে?

স্বল্প দূরত্বে অনেক প্রাণীর তুলনায় মানুষ পিছিয়ে থাকলেও, দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে মানুষের কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য সুবিধা দিতে পারে। মানুষের শরীরে তুলনামূলক কম লোম থাকে এবং ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে এই বৈশিষ্ট্যগুলো সহায়ক। এ ছাড়া মানুষের পেশিতে এমন কিছু পেশিতন্তু রয়েছে, যা তুলনামূলক ধীরগতিতে কাজ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্ষম থাকতে পারে। এটি সহনশীলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে এসব সুবিধার অর্থ এই নয় যে, দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে মানুষ সব প্রাণীকে হারাতে পারবে।

সাইবেরিয়ান হাস্কির মতো স্লেজ কুকুর দীর্ঘ পথ দৌড়ানোর জন্য বিশেষভাবে সক্ষম। একইভাবে প্রশিক্ষিত সহনশীল ঘোড়াও ম্যারাথনের সমান দূরত্বে সমতল পথে অধিকাংশ মানুষের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। ওয়েলসে মানুষ ও ঘোড়ার মধ্যে প্রায় ৩৫ কিলোমিটারের একটি বার্ষিক দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে সাধারণত ঘোড়াই জয়ী হয়, যদিও কিছু বছর মানুষও এগিয়ে থাকে।


প্রাণীদের দৌড়ের ক্ষমতা নির্ভর করে যেসব বিষয়ের ওপর

কোনো প্রাণীকে দৌড়ে হারানো সম্ভব কি না, তা নির্ধারণে শুধু তার সর্বোচ্চ গতি বিবেচনা করলেই হয় না। আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বোচ্চ গতি : প্রাণীটি অল্প সময়ের জন্য কত দ্রুত দৌড়াতে পারে।
ত্বরণ : স্থির অবস্থা থেকে কত দ্রুত গতি বাড়াতে পারে।
সহনশীলতা : কতক্ষণ বা কত দূর পর্যন্ত গতি ধরে রাখতে পারে।
শরীরের গঠন : ওজন, পেশির ধরন এবং শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দৌড়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
পরিবেশ ও ভূখণ্ড : সমতল রাস্তা, বালু, ঘাস কিংবা পাহাড়ি পথে দৌড়ের ফল ভিন্ন হতে পারে।

গবেষকেরা প্রায় ৩৫০ প্রজাতির স্থলচর প্রাণীর দৌড়ের গতি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সবচেয়ে বড় প্রাণীই যে সবচেয়ে দ্রুত হবে, তা নয়। বড় শরীরকে গতিশীল করতে বেশি শক্তি প্রয়োজন হওয়ায় অনেক প্রাণী তাদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানোর আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

সূত্র : বিবিসি এবং ন্যাচার ইকোলজি ও ইভল্যুশন

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   প্রাণী  দৌড়  মানুষ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: