প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ পিএম
পিতৃপরিচয়ের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি : সময়ের আলোরাজবাড়ীতে পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চেয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঘুরছেন নাছিমা বেগম (৩৫) নামে এক নারী। ৩৫ বছর পর পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন নাছিমা। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাও করেছেন তিনি।
নাছিমা বেগম নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মজিদের স্ত্রী। চার সন্তানের জননী তিনি।
নাছিমার অভিযোগ, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরী গ্রামের জিয়াউর রহমান ওরফে জিরু মোল্লার বাড়িতে প্রায় ৪০ বছর আগে তার মা আছিয়া বেগম গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এ সুযোগে নানা প্রলোভন দেখিয়ে জিরু মোল্লা তাঁর মাকে বিয়ে করেন। তবে ওই বিয়ের কোনো লিখিত স্বীকৃতি ছিল না।
একপর্যায়ে আছিয়া বেগম গর্ভবতী হলে তাদের ঘরে নাছিমার জন্ম হয়। তবে সামাজিক অবস্থানের কারণে জিরু মোল্লা তার মা ও তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ নাছিমার। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে আছিয়া বেগম মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেন।
নাছিমার দাবি, বড় হওয়ার পর মায়ের কাছ থেকে নিজের জন্মপরিচয় জানতে পারেন তিনি। দীর্ঘদিন পর পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে জিরু মোল্লার বাড়িতে গেলে তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সম্প্রতি গত ৯ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আবারও পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে গেলে জিরু মোল্লা, তার দ্বিতীয় স্ত্রী লিমা বেগম, ভাতিজা পনি মোল্লা ও জনি মোল্লা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন নাছিমা।
তার আরও অভিযোগ, ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের তার নানাবাড়িতে যান। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘিরে ধরে মারধরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এ ঘটনায় আদালতের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন নাছিমা।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চেয়ে কালুখালী উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউর রহমান ওরফে জিরু মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/জোই