প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ পিএম
দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় মুক্তা। ছবি : সংগৃহীতকক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তাকে তার গ্রামের বাড়িতে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ দিনের অপেক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের খানবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন ও স্থানীয় মুসল্লিরা অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশির পর ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার পুড়ে যাওয়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় থাকা লকেট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।
গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুক্তা। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পর অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও মুক্তার খোঁজ মিলছিল না। ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহের মধ্যেও তার দেহাবশেষ ছিল না। প্রিয়জনের সন্ধানে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের। অবশেষে নতুন করে তল্লাশি চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় তার দেহাবশেষ। এ ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে।
মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো আরও আগেই তার স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যেত। উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
দীর্ঘ ১১ দিনের অপেক্ষার অবসান হলেও স্বজনদের আর জীবিত ফিরে পাওয়া হলো না মুক্তাকে। যে প্রিয়জনের ফেরার আশায় দিন গুনছিলেন তারা, তাকে শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করতে হলো নিথর দেহাবশেষ হিসেবে। দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তা, রেখে গেলেন স্বজনদের জন্য গভীর শূন্যতা।
সময়ের আলো/জোই