প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা ও তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। ছবি : সংগৃহীতকক্সবাজারের ইনানীর পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্টে মঙ্গলবার নতুন করে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে নিখোঁজের ১০ দিন পরে অবশেষে উদ্ধার হয় স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে থাকা তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে উদ্ধার হয় মুক্তার দেহাবশেষ। পরে গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।
নাসরিন আক্তার মুক্তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় 'স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি'নামে একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে তারা ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।
এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। এর আগে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বাঁচলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি মুক্তা।
ফয়সাল বলেন, এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা মুক্তার খোঁজে অপেক্ষা করছিলেন। একে একে অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার সন্ধান মিলছিল না। অবশেষে ১০ দিন পর উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের গলায় থাকা লকেট দেখে আমার স্ত্রীকে শনাক্ত করতে পারি।
এদিকে নিহত মুক্তার ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলাম উদ্ধার কাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও আমার বোনের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমাদের সেখানে যেতে বলা হয়। গিয়ে বোনের মরদেহ পাইনি। পরে আমার দুলাভাই একপ্রকার জোর করেই সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে বোনের গলায় থাকা লকেট দেখে ১০ দিন পর তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
হাসিবুল আরও বলেন, মুক্তার বান্ধবীরা বারবার জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় মুক্তা রিসোর্টের ভেতরেই ছিলেন। এরপরও কেন তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না, সেই প্রশ্নের উত্তর তারা এখনো পাননি। পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া যেত।
সময়ের আলো/জোই