আনন্দ মিছিলটি বের হয়ে বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজারের হিলি গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। ছবি : সংগৃহীতদিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি রেলস্টেশনে ঢাকাগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের অনুমতি দেওয়ায় আনন্দ মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ উপলক্ষ্যে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
হিলি রেলস্টেশন এলাকা থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়ে বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজারের হিলি গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, হিলি আজিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম হিলি রেলস্টেশনে ঢাকাগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের অনুমতি পাওয়া গেছে। নীলসাগর ও চিলাহাটি এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালু হলে হিলিবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত হিলি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম এবং সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হিলি রেলস্টেশনটি দীর্ঘদিনেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন পায়নি। অথচ এখানেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর অবস্থিত, যেখান থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায়।
তিনি বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় রাজশাহীগামী বরেন্দ্র ও চিলাহাটিগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ছাড়া অন্য কোনো ট্রেনের স্টপেজ ছিল না। ফলে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, আত্মীয়স্বজনসহ সাধারণ মানুষকে বিরামপুর কিংবা পাশের পাঁচবিবি রেলস্টেশনে যেতে হতো।
সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, হিলিবাসীর দীর্ঘদিনের এ দাবির কথা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে জানানো হয়েছিল। নির্বাচনের সময় তিনি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে এ দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের অনুমতি পাওয়াকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তারা।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।
সময়ের আলো/এনএন