প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ৮:০৬ পিএম
আবু ইউসুফ জীবন। ছবি : সংগৃহীত চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় গুলিতে আহত যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ জীবন (২৭) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত জীবন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার রাতে ওই আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে তার ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ আছে যুবদল নেতা জুয়েলের অনুসারী ছাত্রদল নেতা ইকরাম বাবু ও সহযোগীদের গুলিতে আহত হন জীবন। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ছাত্রদল নেতা ইকরাম বাবু চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী। ইকরাম বাবু ও তার সহযোগীদের হামলায় গুরুতর আহন হন ইউসুফ জীবন। নিহত ইউসুফ জীবন মৃত্যুর আগে হাসপাতালে একটি ভিডিও বক্তব্য দেন। এই বক্তব্যে ইকরাম বাবু ও আরমান নামের দুজনের বিরুদ্ধে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনায় জুয়েল ও ইকরামের নাম ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে বুধবার তার অস্ত্রোপচার করে ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল। এরপর অবস্থার অবনতি হয় জীবনের। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে গুলিবিদ্ধ হন ইকরাম। হাসপাতালে আনা হলেও পায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এতে জীবনের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে হামলার ঘটনায় জীবনের মা বাদী হয়ে গত বুধবার যুবদল নেতা জিল্লার রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ একটি মামলা দায়ের করেছেন। জীবনের মৃত্যুর পর এটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। ইতোমধ্যে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।
দলের একটি সূত্র জানায়, নিহত জীবন একসময় মহানগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জুয়েলের পক্ষ ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের গ্রুপে যোগ দেন। এরপর থেকেই জুয়েলের অনুসারীদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। তা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে তাকে গুলির ঘটনা ঘটে।
সময়ের আলো/এনএন