প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ পিএম
ভবঘুরে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন মো. বিল্লাল। ছবি : সময়ের আলোনিজে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবনযাপন করেন। পেশায় অটোচালক। তবুও প্রতিদিন মানুষের সহযোগিতায় মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন মো. বিল্লাল।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টার এলাকার এই বাসিন্দা প্রতিদিন দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কে ঘুরে ঘুরে ২৫ থেকে ৩০ জন মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।
তার ভাষ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা থেকে তার এই মানবিক উদ্যোগের শুরু। মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মানুষদের খাওয়ানোর চিন্তা থেকেই প্রথমবার তাদের খাবার দেন বিল্লাল। সেই কাজের পর মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন তিনি। এরপর থেকে নিয়মিত তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন দুপুর ১২টার পর থেকে তিন-চার ঘণ্টা চলে বিল্লালের এই কার্যক্রম। আর খাবার তৈরিতে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী। বিল্লালকে দেখলেই ভবঘুরে মানুষগুলো ছুটে আসেন তার কাছে। সমাজের অনেকেই যখন তাদের এড়িয়ে চলেন, তখন বিল্লাল তাদের আপন করে নিয়েছেন। এই সম্পর্কের মধ্যে নেই কোনো স্বার্থ, নেই কোনো চাওয়া-পাওয়া আছে শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
বিল্লাল বলেন, মাঝেমধ্যে সহযোগিতা পাই না, তখন খাবারও দিতে পারি না। আমি নিজেই কোনো রকমে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবনযাপন করছি। কখনো ভাত-মাংস, কখনো খিচুড়ি দিই। একদিন খাবার দিতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়। আমার সামর্থ্য থাকলে হয়তো কারও কাছে সহযোগিতা চাইতে হতো না।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যদি আমাকে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করে, তাহলে আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই মানুষগুলোর পাশে থাকতে চাই।
বোয়ালখালি বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রাকিব বলেন, বিল্লাল ভাইকে প্রায় সময় দেখি মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মাঝে খাবার দিতে। এই মানুষগুলোর পাশে এভাবে প্রতিনিয়ত কাউকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে দেখা যায় না। সেদিক দেখে বিল্লাল ভাই মানবিকতার অনন্য উদাহরণ।
তিনি সমাজের মানুষকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু একটি মানবিক হৃদয়ের। একজন সাধারণ অটোচালক হয়েও বিল্লাল তার কাজের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
সময়েরে আলো/জোই