প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম আপডেট: ৩০.১০.২০২৬ ৩:১৭ পিএম
গৃহকর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর। ছবি : সময়ের আলো লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমির মালিকের বাড়িতে কাজ করতে না যাওয়ায় গৃহকর্মী নাজমা বেগমের বাড়িতে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে নানা ধরনের হুমকির অভিযোগ উঠেছে জমির মালিক হোসাইন মাহমুদ রাদিত ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে পরিবারটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নাজমা বেগম দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের বাউরা হোসেনের স্ত্রী। আর অভিযুক্ত হোসাইন মাহমুদ রাদিত সিংগীমারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হকের ছেলে।
জানা গেছে, নাজমা বেগম অনেক বছর ধরে অভিযুক্ত হোসাইন মাহমুদ রাদিতের জমিতে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। অসুস্থতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে তিনি কাজ করতে যেতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জমির মালিক হোসাইন মাহমুদ রাদিত ও তার লোকজন রাতে নাজমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসেন।
এ বিষয়ে গৃহকর্মী নাজমা বেগম বলেন, তাদের জমিতে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে থাকি ও তাদের বাসায় কাজ করি। গত দুই দিন অসুস্থ থাকার কারণে তাদের বাসায় কাজ করতে যাইতে পারি নাই। এর জন্য রাদিত ও তার লোকজন আমার বাসায় এসে হামলা ও ভাঙচুর করে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে গেছে। আমি এখন কোথায় যাবো? কার কাছে বিচার চাইবো?
ভুক্তভোগী নাজমা বেগমের পুত্রবধূ বলেন, বাসায় কেউ ছিল না, আমি রান্না করছিলাম। এ সময় রাদিত ও তার লোকজন বাসায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর করে এবং কালকের মধ্যে জমি খালি করে চলে যেতে বলে।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগমের ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা গরিব মানুষ, জমিজমা নেই। এখন আমরা কই যাব, কী করব? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হোসাইন মাহমুদ রাদিত বলেন, কোনো হামলা ও ভাঙচুর করা হয়নি। আমার ও বাবার সম্মান নষ্ট করতে তারা এমন নাটক সাজিয়েছেন। তারা বাসায় অসামাজিক কাজকর্ম করেন, তাই জমি খালি করে চলে যেতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই