প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ এএম
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। ছবি : সময়ের আলোদেশের সব রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, এটি রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এ ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা ও প্রকল্পের যৌক্তিকতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ট্রেনে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় স্টেশনে পৌঁছান। পরে স্টেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।
নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, রেলওয়ের বহরে নতুন ১৮টি কোচ যুক্ত হয়েছে। এসব কোচ দিয়ে আপাতত পঞ্চগড় থেকে একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে আরও ২০০টি কোচ আসার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব কোচ বহরে যুক্ত হলে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপনের কাজও শুরু হবে।
দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়ে মো. আফজাল হোসেন বলেন, পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে সীমান্তের ওপারে ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগের কোনো পয়েন্ট না থাকায় প্রকল্পটির সুফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগ না হলে এটি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করবে; আঞ্চলিক যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলে এবং ভারত তাদের অংশে রেল সংযোগ দিতে রাজি হলে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে। আপাতত প্রকল্পটি স্থগিত রয়েছে।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, স্টেশনের মালামাল ওঠানো-নামানোর সুবিধা এবং বর্তমান চাহিদা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মালামাল পরিবহনের চাহিদা বেশি থাকলে এবং পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া গেলে রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি স্টেশনে আরও বেশি কোচ প্রবেশের সুবিধার্থে অতিরিক্ত লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শনকালে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় স্টেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।