নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ফিরেছে ইলিশবোঝাই ট্রলার। ছবি : সময়ের আলোমা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ফিরেছে ইলিশবোঝাই ট্রলার। ২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গভীর রাত থেকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত এসব ট্রলার বন্দরে ফিরতে দেখা যায়। এ ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকার বন্ধ রাখতে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কিছু জেলে ও ট্রলারমালিক নিয়ম অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন। অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমেও মাছ ধরার অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতে মাছ শিকার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার সকালে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, মাছবোঝাই ট্রলার বন্দরে ভিড়ছে। আড়তগুলোতে শুরু হয়েছে ইলিশের বেচাকেনা। ২২ দিন পর মাছের সরবরাহ শুরু হওয়ায় বন্দর এলাকায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।
সেফ দ্য বে অব বেঙ্গলের সেক্রেটারি জেনারেল মো. কাওসার মনির বলেন, উপকূলের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। তাদের জীবিকা সমুদ্রের মাছের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও অবৈধ ট্রলিং ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকারের অভিযোগ ওঠে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মাছ নিয়ে বন্দরে ফেরার বিষয়টি অবৈধ মাছ শিকারের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। ট্রলারগুলো কখন মাছ ধরেছে, তা যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এরপর মাছ ধরে সকালে বন্দরে এনে বিক্রি করা বৈধ। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের সতর্ক ও সচেতন করার পাশাপাশি অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতে মাছ শিকারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
সময়ের আলো/কেএইচও