ব্যাংক খাত সংস্কারে ৫৫৮০ কোটি টাকা ঋণ বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বাংলাদেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের তদারকি জোরদার এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান

2026-11-01T05:49:00+00:00
2026-11-01T05:49:00+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
ব্যাংক খাত সংস্কারে ৫৫৮০ কোটি টাকা ঋণ বিশ্বব্যাংকের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের তদারকি জোরদার এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। 

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও আর্থিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-২’ প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জাঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইআরডি।

পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের আওতায় ব্যাংক খাতের তদারকি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আর্থিক সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ হচ্ছে আর্থিক খাতের নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করা। এ জন্য ব্যাংক তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এ খাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এ ছাড়া পারফরম্যান্সভিত্তিক শর্ত বা পিবিসির মাধ্যমে আর্থিক খাতের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত অর্থ পরিশোধের সময়সীমা কমানোর বিষয়টিও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

আমানতকারীদের সুরক্ষায় ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম পরিচালনার আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, উত্তোলন করা অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে, অনুমোদিত ঋণের যে অর্থ উত্তোলন করা হবে না, তার ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে।

ঋণ পরিশোধের জন্য পাঁচ বছরের রেয়াতকাল পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এ সময়ে ঋণের মূল কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। এরপর মোট ২৫ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে অর্থায়ন করে আসছে। নতুন এই ঋণের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   ব্যাংক খাত  সংস্কার  ঋণ  বিশ্বব্যাংক 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: