ঢাকা টেস্টে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে হতাশার হারের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। গতকাল শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ছবি : বিসিবি১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচ জেতার বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশের। মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটে এই পুঁজি নিয়ে লড়াই করা সম্ভব বলেই মনে করেছিলেন স্বাগতিকরা। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের সামনে কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিলেও নিজেদের বোলিং নিয়ে তাই সন্তুষ্ট নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, এই উইকেটে আরও ভালো বোলিং করার সামর্থ্য ছিল দলের।
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছিল স্বাগতিকরা। স্পিনসহায়ক উইকেটে এই রান নিয়েও লড়াইয়ের আশা ছিল তাদের। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের আটকে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ম্যাচ শেষে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে বোলিংয়ের ঘাটতির কথাই তুলে ধরেছেন শান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘১৭০ হওয়ার পর আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে সেটা সম্ভব মনে হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি। অবশ্যই ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলব, এই উইকেটে আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের সামনে বাংলাদেশের বোলারদের অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী লাইন ও লেংথ ধরে রাখতে পারেননি বলে মনে করেন শান্ত। তার মতে, প্রতিপক্ষকে এত সহজে রান তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি। লক্ষ্য ছোট হলেও বোলারদের কাছ থেকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে ধরতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ওদের ব্যাটিং দেখেন, আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত-আটটি উইকেট নিতে পারলে হয়তো বুঝতাম, আমরা রানটা অনেক কম করেছি। কিন্তু এই জায়গাটায় আমার মনে হচ্ছে একটু এলোমেলো ছিল।’
ম্যাচে আম্পায়ার্স কলের সিদ্ধান্তও বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে একাধিকবার। অন্তত পাঁচটি রিভিউয়ের ক্ষেত্রে আম্পায়ার্স কল হওয়ায় হতাশা ছিল স্বাগতিক শিবিরে। তবে সেসব সিদ্ধান্তকে হারের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না অধিনায়ক। তার মতে, ১৭০ রানের মতো ছোট লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে গেলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষেও আসা প্রয়োজন ছিল।
এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘আপনি যখন ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন পাঁচটি আম্পায়ার্স কলের মধ্যে তিনটি আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। আম্পায়ারকে দোষও দিতে পারবেন না। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে শুরুতেই যে আউটটা আমরা পাইনি, সেটা পেলে হয়তো অন্য রকম মোমেন্টাম পেতাম। কি এটাকে অজুহাত দিতে চাই না।’
তবে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিজেদের বিপক্ষে গেলে দলের মনোবলে প্রভাব পড়ে, সেটিও স্বীকার করেছেন শান্ত। বিশেষ করে কাছাকাছি সিদ্ধান্তগুলো বারবার প্রতিপক্ষের পক্ষে যাওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছিল খেলোয়াড়দের মধ্যে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘মিথ্যা বলব না। যখন অনেক বেশি হয়, তখন একটু ডিমোটিভেটেড লাগে। চার-পাঁচটি এমন হলে স্বাভাবিকভাবেই একটু হতাশা আসে।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে