আশরাফ হাকিমি। ছবি : সংগৃহীতএক ম্যাচে তিন গোল, দুটি অ্যাসিস্ট। সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো থেকে শুরু করে নিজেই জালের দেখা পাওয়া— সবকিছুতেই ছিলেন আশরাফ হাকিমি। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও লা হাভ্রকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তবে পাঁচ গোলে অবদান রাখার পরও নিজের এই পারফরম্যান্সকে ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ বলতে রাজি নন মরক্কোর এই ডিফেন্ডার।
লিগ ওয়ানের ম্যাচে শুরুটা অবশ্য পিএসজির পক্ষে ছিল না। ১৮ মিনিটে রায়ান ফোফানার পাস থেকে গোল করে স্বাগতিক লে আভরকে এগিয়ে দেন জশ মাজা। তবে আট মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে ফেরে পিএসজি। হাকিমির সহায়তায় গোল করেন মিকা গডটস। এর মাত্র ১৩২ সেকেন্ড পর সেনি মায়ুলুর পাস থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে পিএসজিকে এগিয়ে দেন হাকিমি।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমেনি পিএসজির। ৫৫ মিনিটে ম্যাগনেস আকলিউশকে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পায় সফরকারীরা। সেখান থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হাকিমি। ৬২ মিনিটে তার বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান মায়ুলু। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। সাত মিনিট পর গডটসের পাস থেকে নেওয়া হাকিমির শট প্রথমবার ঠেকালেও ফিরতি বল তার গায়ে লেগে জালে জড়ায়। পূর্ণ হয় হ্যাটট্রিক, পিএসজির জয়ও নিশ্চিত হয় ৫-১ গোলে।
ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানালেও আত্মতৃপ্তিতে ভাসতে চাননি হাকিমি। তার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও দলের জয় গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, এটি আমার জীবনের সেরা ম্যাচ নয়। আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি পারফরম্যান্স ছিল। নিজের খেলা নিয়ে আমি খুব খুশি। সত্যি বলতে, এটাই আমার প্রথম হ্যাটট্রিক।’
এরপর নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ মুহূর্তগুলোর প্রসঙ্গ টেনে হাকিমি বলেন, ‘এমন আরও কিছু ম্যাচ আছে, যেগুলোতে আবেগ অনেক বেশি ছিল এবং যেগুলো আমাকে আরও গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এই জয়ে আমি খুব খুশি।’
একই সঙ্গে নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। হাকিমির ভাষায়, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে খেলছি, কিন্তু গোল পাচ্ছিলাম না। এখানে গোল করেছি বলেই সবাই এটিকে অসাধারণ ম্যাচ বলছে। তবে আমার মনে হয়, মৌসুমের শুরু থেকেই আমি খুব ভালো খেলছি। আমি নিজের পারফরম্যান্সে খুশি এবং আশা করি এভাবেই খেলা চালিয়ে যেতে পারব।’
দলের প্রয়োজনে কখনো গোল করা, কখনো সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো— সবভাবেই অবদান রাখতে চান হাকিমি। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি সবদিক থেকেই দলকে সাহায্য করি। লে আভরের বিপক্ষে সেটি করেছি গোলের মাধ্যমে। অন্য ম্যাচে অবদান রাখার ধরন ভিন্ন হতে পারে। আমি নিজের খেলার মান নিয়ে সন্তুষ্ট।’
এবারের ম্যাচটি হাকিমির জন্য বিশেষ হয়ে উঠেছে আরও একটি কারণে। লিগ ওয়ানে আগের সাত ম্যাচে কোনো গোল কিংবা অ্যাসিস্ট ছিল না তার। অথচ এক ম্যাচেই তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে সেই খরা কাটিয়েছেন মরোক্কান অধিনায়ক। লিগে চলতি মৌসুমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল-অবদানে ফেররান তোরেসের সঙ্গে এখন যৌথভাবে শীর্ষে তিনি।
পরিসংখ্যানের পাতাতেও বিরল এক কীর্তি গড়েছেন হাকিমি। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে লিগ ওয়ানের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরুর পর এক ম্যাচে পাঁচ গোলে অবদান রাখা সপ্তম ফুটবলার তিনি। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন নেইমার, ইব্রাহিমোভিচ, এডিসন কাভানি, কিলিয়ান এমবাপে, মেম্ফিস ডিপাই ও কার্লোস এদুয়ার্দো। তবে এই তালিকায় প্রথম ডিফেন্ডার হাকিমি। লিগে আগের ১৩৫ ম্যাচের কোনোটিতেই দুইয়ের বেশি গোলে অবদান রাখতে পারেননি তিনি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে