প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি : সময়ের আলেচুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সাদিয়া আক্তার মুসলিমা (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যত্র বিয়ের চাপের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।
মুসলিমা পাইকপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের চরপাড়ার সানোয়ারের ছেলে সজিবের সঙ্গে মুসলিমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দুজন সহপাঠী ছিল। একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সম্প্রতি মুসলিমার পরিবার অন্যত্র তার বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সজিবকে বিয়ে করার বিষয়ে অনড় ছিল মুসলিমা। এর আগে বিয়ের দাবিতে সে সজিবের বাড়িতেও গিয়ে অবস্থান নিয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মুসলিমার পরিবার এই সম্পর্কে রাজি ছিল না। তারা তাকে অন্যত্র বিয়েতে রাজি করানোর চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে সজিবও তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিবারের চাপ ও প্রেমিকের প্রত্যাখ্যানের কারণে মুসলিমা হতাশ হয়ে পড়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
গ্রামের কয়েকজনের অভিযোগ, মুসলিমা ও সজিবের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের দাবি, মুসলিমা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এ কারণে সে সজিবকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং একপর্যায়ে তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেয়। তবে সজিব মাদকাসক্ত হওয়ায় মুসলিমার পরিবার এই বিয়েতে রাজি ছিল না বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে সজিব আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মুসলিমার পরিবার সজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই