চা-শ্রমিকের ঘামে সমৃদ্ধ অর্থনীতি, অথচ অপুষ্টির ঝুঁকিতে মা ও শিশু

সৈয়দ সালিক আহমেদ, হবিগঞ্জ

সারাদেশ

দিগন্তজুড়ে সবুজ চা-বাগান। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-গাছের ফাঁকে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। মাথায় ঝুড়ি, কোমরে কাপড়

2026-11-01T09:41:35+00:00
2026-11-01T09:41:35+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চা-শ্রমিকের ঘামে সমৃদ্ধ অর্থনীতি, অথচ অপুষ্টির ঝুঁকিতে মা ও শিশু
সৈয়দ সালিক আহমেদ, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ এএম 
চা-পাতা আর চানাচুর দিয়ে যে ভর্তা তৈরি করে ভাগ করে খাচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। ছবি : সময়ের আলো
দিগন্তজুড়ে সবুজ চা-বাগান। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-গাছের ফাঁকে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। মাথায় ঝুড়ি, কোমরে কাপড় বেঁধে একের পর এক চা-পাতা তুলতে থাকেন নারী শ্রমিকেরা। তাদের হাতের স্পর্শে উৎপাদিত চা ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের বাজারে। চা-শিল্পের হাত ধরে সমৃদ্ধ হয় দেশের অর্থনীতি। কিন্তু এই সবুজ সমৃদ্ধির আড়ালে চাপা পড়ে আছে এক নির্মম বাস্তবতা। যাঁদের শ্রমে দেশের চা-শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের অনেকের ঘরেই জোটে না পুষ্টিকর খাবার। গর্ভবতী মায়েরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা। অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি নিয়ে বেড়ে উঠছে তাদের সন্তানরা।

চায়ের সবুজ পাতায় সমৃদ্ধির গল্প লেখা হলেও চা-শ্রমিক পরিবারের খাবারের থালায় সেই সমৃদ্ধির প্রতিফলন নেই। জীবিকার তাগিদে মা-বাবা দুজনকেই কাজ করতে হয়। ফলে গর্ভাবস্থায় বিশ্রাম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত একজন মা জানতেও পারেন না তার গর্ভের শিশুটি সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে কি না।

যদিও চা বাগানের রয়েছে নিজস্ব হাসপাতাল, যেখানে শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও কিছু কিছু বাগানে রয়েছে নিজস্ব স্বাস্থ্য কর্মী, যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসুস্থ জনগোষ্ঠীর খোঁজ নিচ্ছেন। 

হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ২৪টি চা-বাগান। ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী এসব বাগানে বসবাস করেন প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার নারী-পুরুষ। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিভিন্ন চা-বাগানে পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পের তথ্য।

একটি বেসরকারি সংস্থার মেডিকেল ক্যাম্পে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আসা শিশুদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে প্রায় তিনজনের তীব্র অপুষ্টি শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে পরীক্ষা করা গর্ভবতী নারীদের প্রতি ১০ জনে প্রায় দুজনের রক্তস্বল্পতা কিংবা পুষ্টিহীনতার সমস্যা পাওয়া গেছে। চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীবাড়ী, দেউন্দি, লালচান, চানপুর, ছণ্ডিছড়া, দারাগাঁও, রেমাসহ বিভিন্ন চা-বাগানে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে উঠে এসেছে এমন চিত্র। অর্থাৎ চা-বাগানের সবুজ প্রকৃতির ভেতরে মা ও শিশুর পুষ্টিনিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের সংকট।

চানপুর চা-বাগানের ২০ বছর বয়সী শ্রমিক রত্না গঞ্জুর জীবনের গল্প এই সংকটেরই একটি প্রতিচ্ছবি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয় তার। স্বামী সানি গঞ্জুর সঙ্গে সংসারে রয়েছে চার বছর বয়সী একটি মেয়ে। বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রত্না। কিন্তু প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে তিনি কোনো গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাননি।


প্রসবব্যথা শুরু হওয়ার পর বাড়িতেই ধাত্রীর সহায়তায় সন্তান প্রসবের চেষ্টা চলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা। দীর্ঘ সময় প্রসব যন্ত্রণায় কাতরানোর পর তাকে নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেন তিনি। অথচ গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হওয়ার পর এবারই প্রথম স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন রত্না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এমআইএইচআর প্রকল্পের উদ্যোগে চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলার ১৩টি চা-বাগানে পর্যায়ক্রমে গর্ভবতী নারীদের শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং শিশুদের পুষ্টি যাচাইয়ে মা সমাবেশ ও মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সেই ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন তিনি।

এত দিন গর্ভকালীন পরীক্ষা করাননি কেন—জানতে চাইলে রত্না বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাগানে কাজ করি। সময় পাই না। আজ এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করবে, তাই এসেছি।

রত্নার এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে চা-শ্রমিক নারীদের জীবনের দীর্ঘ বঞ্চনার গল্প। সংসারের আয় বাড়াতে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই শ্রম বিক্রি করতে হয়। কাজ থেকে একদিন বিরতি নিলে কমে যায় আয়। তাই গর্ভাবস্থায় অসুস্থতা থাকলেও অনেক নারী কাজ চালিয়ে যান। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া কিংবা নিজের শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার বিষয়টি তাদের কাছে অনেক সময় বিলাসিতার মতো।

মধুপুর চা-বাগানের শ্রমিক কবিতা ভোনার্জির অভিজ্ঞতাও একই রকম। গর্ভাবস্থায় আট মাস পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাদের। এরপর নেন মাতৃত্বকালীন ছুটি। কিন্তু কাজ বন্ধ হলেও খাবারের নিশ্চয়তা থাকে না। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারেন না।

কবিতা বলেন, আমরা গর্ভকালীন সময়ে প্রায় আট মাস পর্যন্ত কাজ করি। তারপর মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। এই সময়েও আমরা সচরাচর চা-পাতা আর চানাচুর দিয়ে যে ভর্তা তৈরি করি, সেটা দিয়ে খাবার খাই। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুষ্টিকর খাবার জোটে না।

একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকায় থাকার কথা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও ফলমূল। কিন্তু কবিতার খাবারের থালায় সেসবের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে চা পাতার ভর্তা। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ সময় কাজ করলেও সেই শ্রমের উপার্জন দিয়ে পরিবারের সবার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দেউন্দি চা-বাগানের শ্রমিক পপি চৌহানের অভিজ্ঞতাও একই সংকটের কথা বলে। তার ভাষ্য, গর্ভাবস্থায় তাদের জন্য আলাদা কোনো খাবারের ব্যবস্থা থাকে না। বাগানে কাজের সময় দুপুরে ভাতের সঙ্গে চা-পাতা ও চানাচুর দিয়ে ভর্তা তৈরি করে খেতে হয়। কখনো মাছ ভেজে নিয়ে যান। তবে গরমের কারণে রান্না করা তরকারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় তা সঙ্গে নিতে পারেন না।

পপির অভিজ্ঞতা শুধু একজন শ্রমিকের খাবারের সীমাবদ্ধতা নয়; এটি শ্রমজীবী পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার বাস্তব চিত্র। গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত ও সুষম খাবার না পেলে মা ও অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। জন্মের পরও শিশুর যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত না হলে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি মা ও শিশুর জন্য নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কম বয়সে মাতৃত্ব গ্রহণ করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। ফলে চা-বাগানের কিশোরী ও তরুণী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চা-বাগান এলাকায় পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে শুধু গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, শিশুদের পুষ্টির অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। উচ্চতা, ওজন, বাহুর মধ্যবর্তী পরিধি (ম্যাক) পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থা শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের রক্তস্বল্পতা শনাক্তকরণ, রক্তে শর্করা পরীক্ষা, রক্তচাপ, ওজন ও আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো সেবা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত একজন চিকিৎসক জানান, তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত শিশুদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইএমসিআই কর্নারে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুষ্টিসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে মা ও শিশুকে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে যাতায়াতে আর্থিক সহায়তা করা হয়।

তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ক্যাম্পে অপুষ্টি শনাক্ত হওয়ার পর সব শিশু নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছে কি না, চিকিৎসা শেষে তাদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কি না, কিংবা ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী মায়েরা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারছেন কি না?

কারণ একদিনের মেডিকেল ক্যাম্পে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও দীর্ঘদিনের পুষ্টি সংকট দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত চিকিৎসা, পুষ্টি পরামর্শ, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা।


হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, চা-বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর বাইরে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সেলিং করছেন। তবে চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। 

স্বাস্থ্য বিভাগের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নিয়মিত টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ কার্যক্রম থাকলেও চা-শ্রমিকদের সামগ্রিক মাতৃস্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব নারী জীবিকার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারেন না, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

চা-বাগানের পুষ্টি সংকটের পেছনে শুধু স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি নয়, রয়েছে আর্থসামাজিক বাস্তবতাও। সীমিত আয়, খাদ্যপণ্যের ক্রয়ক্ষমতার অভাব, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মাতৃত্বকালীন সময়ে কাজের চাপ, স্বাস্থ্যসচেতনতার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রতিবন্ধকতা—সব মিলিয়ে মা ও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চা-বাগানভিত্তিক নিয়মিত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন। গর্ভবতী নারীদের নির্ধারিত সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তস্বল্পতা শনাক্তকরণ, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সেবন নিশ্চিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একই সঙ্গে শিশুদের জন্মের পর থেকে নিয়মিত ওজন ও পুষ্টির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসা এবং ফলোআপ নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু চিকিৎসা দিয়ে নয়, শ্রমিক পরিবারের পুষ্টিকর খাবার কেনার সক্ষমতা বাড়ানো, পুষ্টি সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি কম বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পরিবার, বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

চা-শ্রমিকদের শ্রমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাদের হাতে তোলা চা দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে। অথচ সেই শ্রমিকের ঘরে যদি গর্ভবতী মায়ের জন্য পুষ্টিকর খাবার না জোটে, শিশুকে যদি বেড়ে উঠতে হয় অপুষ্টি নিয়ে, তবে সেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল কারা ভোগ করছেন—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

একটি দেশের উন্নয়ন শুধু রপ্তানি আয়, উৎপাদন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো সেই উন্নয়নের সুফল শ্রমজীবী মানুষের ঘরে কতটা পৌঁছেছে। যাদের শ্রমে চায়ের কাপ ভরে ওঠে, তাদের সন্তানদের খাবারের থালা যদি অপুষ্টিতে খালি থাকে, তবে সেই সমৃদ্ধির গল্প অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

চায়ের সবুজ পাতায় অর্থনীতির সম্ভাবনা যতই উজ্জ্বল হোক, তার আড়ালে মা ও শিশুর অপুষ্টির বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। চা-শ্রমিকের ঘামে দেশের চা-শিল্প সমৃদ্ধ হয়; এখন প্রয়োজন তাদের পরিবারের সুস্থতা, পুষ্টি ও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা। কারণ চা-শিল্পের প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু উৎপাদিত চায়ের পরিমাণে নয়, সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনমান কতটা উন্নত হলো, তার মধ্যেই নিহিত।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   চা-শ্রমিক  ঘামে সমৃদ্ধ  অর্থনীতি  অপুষ্টি  ঝুঁকি  মা ও শিশু  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: