রফতানির ৮১ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশের পণ্য রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও রফতানি আয়ের বড় অংশ এখনও তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম

2026-11-02T03:49:44+00:00
2026-11-02T03:49:44+00:00
 
  সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি
রফতানির ৮১ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দেশের পণ্য রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও রফতানি আয়ের বড় অংশ এখনও তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বাংলাদেশের পণ্য রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১৬০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৯৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ৬ শতাংশ।

তবে এই প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক মিলিয়ে চার মাসে রফতানি হয়েছে ১৩৭ কোটি ১১ লাখ ডলারের পণ্য। মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এসেছে এই দুটি পণ্য থেকে। ফলে সামগ্রিক রফতানি আয় বাড়লেও দেশের রফতানি খাতের বহুমুখীকরণ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পণ্যভিত্তিক রফতানি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে নিটওয়্যার রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৭৭১ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে আগের বছরের চেয়ে এই খাতে রফতানি বেড়েছে ৫০ কোটি ডলার, যার প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৬শ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৭৩ কোটি ডলার। এক্ষেত্রে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৮ কোটি ডলার বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। দুটি খাত মিলিয়ে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার। বিপরীতে সব পণ্য মিলিয়ে রফতানি বেড়েছে প্রায় ৯৬ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মোট রফতানি বৃদ্ধির প্রায় ৮১ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। বাকি প্রায় ১৯ শতাংশ এসেছে অন্যান্য পণ্য খাত থেকে।

পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতে সম্ভাবনা
তৈরি পোশাকের বাইরে কয়েকটি পণ্য খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল প্রায় ৩১ কোটি ডলার।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪১ কোটি ডলারের চেয়ে ৫ কোটি ডলার বেশি। রাসায়নিক পণ্যের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ কোটি ডলার।

এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ডলার। পাদুকা রফতানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১৯ কোটি ডলার। বিশেষায়িত বস্ত্রপণ্যের রফতানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কার্পেট রফতানি বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

তবে প্রবৃদ্ধির হারের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে পরচুলা ও মানব চুল রফতানি। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ। রফতানি আয় ৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আকরিক, স্ল্যাগ ও ছাই রফতানিও ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এ খাতের মোট রফতানি আয় মাত্র ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।


রফতানি কমেছে যেসব খাতে
সামগ্রিক রফতানি আয় বাড়লেও বেশ কয়েকটি পণ্য খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি অর্থমূল্যের পতন হয়েছে কৃষিপণ্য রফতানিতে। চার মাসে এ খাতের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের চেয়ে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় কমেছে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ কোটি ডলার। তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রফতানিও কমেছে। সুতা, তুলার বর্জ্য ও কাপড়সহ এ খাতে রফতানি আয় ১৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার থেকে কমে ১৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

এ ছাড়া কাগজ ও কাগজজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ। এ খাতে আয় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার থেকে কমে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। কৃত্রিম তন্তু ও স্ট্যাপল ফাইবারের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। ক্যাপ বা টুপি রফতানিতে পতন হয়েছে ৫ শতাংশ। সিমেন্ট, লবণ ও পাথরজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সিরামিক পণ্যে কমেছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। পেট্রোলিয়াম উপজাত পণ্যের রফতানিও কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

বহুমুখীকরণের চ্যালেঞ্জ
রফতানির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের রফতানি আয় এখনও মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। মোট রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসছে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক খাত কোনো ধরনের প্রতিকূলতার মুখে পড়লে দেশের সামগ্রিক রফতানি আয়ে তার বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে পাট, চামড়া, রাসায়নিক, হোম টেক্সটাইল ও পাদুকাসহ কয়েকটি খাতে প্রবৃদ্ধি রফতানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে রাসায়নিক পণ্য ও পাটজাত পণ্যের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসব খাতের সম্প্রসারণের সুযোগের ইঙ্গিত দেয়।

তবে কৃষি, মাছ, তুলা, কাগজ ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন খাতের রফতানি কমে যাওয়াও উদ্বেগের বিষয়। এসব খাতে রফতানি কমার কারণ চিহ্নিত করা এবং উৎপাদন, পণ্যের মান, বাজার প্রবেশাধিকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   রফতানি  পোশাক খাত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: