প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ এএম
সংগৃহীত ছবিগাইবান্ধায় ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি একটি মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাসান আলীকে (৬৯) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১৩)। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসআরবি-১৩-এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেফতার হাসান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ির মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস ধরে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন মাদরাসা পরিচালক হাসান আলী। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার বাবা-মাকে জানালে তারা অভিযুক্তকে ফোন করেন। এ সময় হাসান আলী নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে আশ্বাস দেন।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন হাসান আলী। সেখানে যাওয়ার পর জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যা ও মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দেওয়া হয়।
পরে কৌশলে মোবাইল ফোনে ঢাকায় অবস্থানরত বাবা-মাকে বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী। ৩১ আগস্ট গাইবান্ধায় এসে মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনেন তারা। এরপর ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা।
মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান হাসান আলী। তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা ক্যাম্প) একটি অভিযান পরিচালনা করে। পলাশবাড়ী থানার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে শ্যামলী ট্রাভেলসের কাউন্টারের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার রায় বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি হাসান আলীকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করে এসআরবি। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই