প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ফারজানা তার বাবা মরজত আলী ও মা সালেহা বানু। ছবি : সময়ের আলোএসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের ফারজানা আক্তার। স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া। কিন্তু মেধা থাকলেও উচ্চশিক্ষার পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক সংকট।
ফারজানার বাড়ি হোসেনপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নিরাহারগাতী গ্রামে। তিনি হোসেনপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবার এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগেও একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফারজানার বাবা মরজত আলী দিনমজুর। অন্যের জমিতে বর্গা চাষ ও দিনমজুরি করে সংসার চালান। সামান্য ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। বয়স ও অসুস্থতার কারণে আগের মতো কাজও করতে পারেন না।
চার ভাইবোনের মধ্যে ফারজানা চতুর্থ। অভাবের মধ্যেও পড়াশোনা থামাননি তিনি। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার জোটেনি, তবুও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
ফারজানা বলেন, জিপিএ-৫ পেয়েছি, কিন্তু অর্থের অভাবে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করে মানুষের সেবা করতে চাই।
মা সালেহা বানু বলেন, মেয়ের ভালো ফলে আমরা খুশি, কিন্তু টাকার অভাবে তাকে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারব না, ভেবে কান্না আসে। ছেলে না থাকায় সংসারের হাল ধরারও কেউ নেই।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, ফারজানা অত্যন্ত মেধাবী, তাকে সব সময় উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে ফারজানা প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা থাকলে সাফল্য আসে। এখন তার স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা
সময়ের আলো/জোই