প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
পিরোজপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। ছবি : সময়ের আলোপিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং মানিক পশারীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড যৌথভাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফসিউর রহমান হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নিয়ে অবহেলা বা বাধা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানিক পশারীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার জাকির হোসেন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্র ও সমাজের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের শেষ বিদায়ে বাধা দেওয়া শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অসম্মান নয়, বরং স্বাধীন রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত।
পৌর কমান্ডার জয়নাল আবেদীন বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা মোবাউল হক ফরিদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াসেল সিদ্দিকী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসরাবুর নবী মোবারক, ডেপুটি কমান্ডার মজিবুর রহমান, আওলাদ হোসেন খান, হারাধন বিশ্বাস ও দুধ মিয়াসহ অনেকে।
এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পক্ষ থেকে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা আহ্বায়ক বিপ্লব ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকারিয়া। বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
সময়ের আলো/জোই