প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ পিএম আপডেট: ০২.১১.২০২৬ ১:৫৭ পিএম
রূপার মা সাজেদা। ছবি : সময়ের আলো বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে একাধিকবার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বারবার ভেঙে গেছে রূপার বিয়ের আলোচনা। এবারও বিয়ে ভাঙার অনিশ্চয়তায় পড়েছে রূপার বিয়ে।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা রূপার বাবা ইনশাফ আলী একজন ভ্যান চালাক। তবে আর দশজনের মতো ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান কেনার সাধ্যও নেই তার। ফলে পা-চালিত ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন আয় করেন মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অন্যদিকে রূপার মা সাজেদা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, কখনো করেন মাটি কাটার কাজও। স্বামী-স্ত্রীর এই সামান্য আয়ে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার।
সংসারের অভাব এতটাই প্রকট যে তিন সন্তানের মুখে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার জোটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। নিত্যদিনের খাবারের ব্যবস্থা করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করা পরিবারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একাধিকবার বিয়ের সম্বন্ধ এসেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে গেছে। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাবা-মায়ের। অসহায় এই পরিবারের চাওয়া, সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষগুলো এগিয়ে এলে হয়তো রূপার বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
প্রতিবেশী সাবিনা নামে এক নারী বলেন, রুপার বাবা ঠিক মতো চোখে দেখে না, পা দিয়ে ভ্যান চালায় ওই ভ্যানে কোনো মানুষ উঠতে চায় না। সারাদিন মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা ইনকাম করে। সাথে তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে। সমাজের বিবেকবান মানুষের কাছে বলি সবাই এই পরিবারের পাশে দাঁড়ালে এই মেয়েটার বিয়ে হবে। টাকার জন্য বারবার বিয়ে ভেঙেছে আর যেন বিয়েটা ভেঙে না যায়। মানবিক মানুষদের প্রতি আহ্বান, রূপার পরিবারের পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাও হতে পারে একটি অসহায় পরিবারের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর করার অবলম্বন।
রুপার মা সাজেদা বলেন, অর্থের অভাবে আমার মেয়ে রুপার বিয়ে বারবার ভেঙে যাচ্ছে। একজন মা হিসেবে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও হৃদয়বান মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমার মেয়ের বিয়ের স্বপ্নটি পূরণ হবে। আমি সবার কাছে আকুল আবেদন জানাই, আপনারা একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় আমার মেয়ের মুখে হাসি ফুটতে পারে, পূরণ হতে পারে তার নতুন জীবনের স্বপ্ন।
রূপার চাচি নীলা বেগম বলেন, এর আগে ভালো ভালো সম্বন্ধ আসে কিন্তু টাকার অভাবে বিয়ে হয় নাই। আমার দেওর প্রতিবন্ধী মানুষ, পা-ভ্যান চালিয়ে দিনে ৮০-১০০ টাকা রোজগার করে। এ টাকা দিয়ে এই যুগে সংসার চালানো কঠিন। এবার বিয়ে ঠিক হয়েছে,আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা এইবার সাহায্য সহযোগিতা করে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করেন।
সময়ের আলো/জোই