বান্দরবান সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যার ১০ তলা নতুন ভবন। ছবি : সময়ের আলোবান্দরবান সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যার ১০ তলা নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২২ সালে। এতে রয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), আইসোলেশন ওয়ার্ড, সার্জারি ইউনিট ও গাইনি ওয়ার্ডসহ আধুনিক চিকিৎসার নানা সুবিধা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ভবনটি। এতে একদিকে আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার মানুষ, অন্যদিকে ১০০ শয্যার পুরোনো হাসপাতালে বাড়তি রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে বান্দরবান সদর হাসপাতাল। পরে ২০০৫ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। জেলার সাতটি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে এবং ৯০ থেকে ১০০ রোগী আন্তবিভাগে চিকিৎসা নেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে হয়। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে পুরোনো ১০০ শয্যার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসুবিধা নেই। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে রোগীদের যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা।
হাসপাতালের শয্যাসংকট ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করতে ২০১৯ সালে ৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১০ তলা ভবনটির কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক চিকিৎসাসেবার জন্য নির্মিত বিশাল অবকাঠামোটি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নতুন ভবনটি চালু হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বাড়বে শয্যাসংখ্যা, উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন রোগীরা। একই সঙ্গে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে। তাদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ভবনটি চালু করা হোক।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে তাকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। নতুন ভবনটি চালু হলে অন্তত শয্যা সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন তিনি।
বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা মংঞোচিং মার্মা বলেন, পুরোনো হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ না থাকায় জটিলতা দেখা দিলেই রোগীদের চট্টগ্রামে যেতে হয়। দরিদ্র মানুষের পক্ষে সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন। নতুন ভবনটি চালু হলে এই দুর্ভোগ কমবে এবং সাধারণ মানুষ স্থানীয়ভাবে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রুমা উপজেলার বাসিন্দা ছোহাইমং মার্মা বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে এসেও আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা না থাকায় তাদের চট্টগ্রামে যেতে হচ্ছে। নতুন ভবনটি চালু থাকলে হয়তো এত দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসেন চৌধুরী বলেন, নতুন ভবনের অবকাঠামোগত সব কাজ শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলেই দ্রুত ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে। এটি চালু হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হবে।
সময়ের আলো/জোই