মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। সংগৃহীত ছবি ন্যূনতম বেতন-ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের হেমায়েতপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হেমায়েতপুর এলাকায় মহাসড়কের উভয়মুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এ সময় ন্যূনতম বেতন-ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা থেকে আরিচাগামী এবং আরিচা থেকে ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুরে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাগুলো করে। এসব মামলায় মোট ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে করা এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দুই সপ্তাহ ধরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আসছেন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধের দাবিতে গতকালও সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার সারা দেশে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ ছিল। কাজ না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন প্রায় ১৭ লাখ শ্রমিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রোববার শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার।
তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। ২০২৩ সালের মজুরি বোর্ড ছয়টি সভা করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করে। পরে ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। তবে শ্রম আইন সংশোধনের পর তিন বছরের সময় গণনা সংশোধনের আগে থেকে, নাকি পরে শুরু হবে, তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই মতবিরোধ আর টেকেনি।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথম নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। ওই বোর্ড ৯৩০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে। পরে ২০০৬ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়।
২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের বোর্ড তা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা চূড়ান্ত করে। এর মধ্যে মূল মজুরি ছিল ৪ হাজার ১০০ টাকা।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ