প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
সংগৃহীত ছবিপাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানীকে নিজ অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে। এ সময় তার কার্যালয়ে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগী। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু পাবনা সুজানগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন।
এই ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ের মধ্যে রয়েছেন তিনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে কর্মস্থলে আসতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন ওই ভুক্তভোগী চিকিৎসক। মঙ্গলবার দুপুরে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সে বিষয়ে কথা বলতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কাউকে অবরুদ্ধ বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানী বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর ই-জিপি প্রক্রিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ৬টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ই-জিপি নীতিমালা মেনে অনলাইনে মূল্যায়নের পর গত ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। কিন্তু স্থানীয় কিছু নেতা শর্ত কঠিন হয়েছে দাবি করে দরপত্র বাতিলের চাপ দিতে শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার কনফারেন্স রুমে মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় হঠাৎ সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট-দশজনের একটি দল তার দাফতরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেয়। পরে ভেতরে ঢুকে কক্ষের ছিটকিনি লাগিয়ে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ডা. সুপ্রভা রানী বলেন, আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রি-টেন্ডার করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াসিম খান বলেন, যারা টেন্ডার পাননি, তারা ম্যাডামকে নানা বিষয় জিজ্ঞাসা করছিলেন ও চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করছিলেন। আমি ম্যাডামের কক্ষে এসে দেখি সিসি ক্যামেরা উল্টানো। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে এটি করে থাকতে পারে। পরে আমি থানায় খবর দিলে পুলিশ কর্মকর্তা আসেন।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে আমি জানি। সম্প্রতি টেন্ডার না পেলে প্রায় প্রতিটি দফতরেই এ ধরনের হেনস্থা বা হয়রানিমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এর আগে আমি নিজেও এ ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছি। এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সময়ের আলো/জোই