সারের ঘাটতির অভিযোগ সংসদ সদস্যের, অস্বীকার করলেন কৃষিমন্ত্রী

রাজশাহী ব্যুরো

সারাদেশ

রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার সার, বীজ, সেচ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথা সার্বিক কৃষি উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে

2026-11-05T10:32:06+00:00
2026-11-05T10:32:06+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সারের ঘাটতির অভিযোগ সংসদ সদস্যের, অস্বীকার করলেন কৃষিমন্ত্রী
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ এএম 
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও এমপি আবু সাঈদ চাঁদ। ছবি : সময়ের আলো
রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার সার, বীজ, সেচ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথা সার্বিক কৃষি উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সারের সংকট নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সভায় বিএনপির সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, কৃষকরা সারের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং তাদের চাহিদার কিছু অংশও পাচ্ছেন না। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় দেশে মজুত বেশি আছে। সারের কোনো সংকট নেই।

এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। আর বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ এবং জেলা বিএনপি আহ্বায়ক   সভায় বলেন, নারীসহ কৃষকরা সার সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এতে প্রায়ই তাদের এক দিনের মজুরির ৪০০-৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। তবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ বলেছেন, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় দেশে ৩৫ শতাংশ বেশি সারের মজুদ রয়েছে। আগামী দিনে সারের ঘাটতির সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।

সভায় চাঁদ বলেন, কিছু কৃষক তাদের জমির জন্য আরও বেশি সারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মাত্র আধা বস্তা বা এক মণ সার পাচ্ছেন। আমি নিজেও একজন কৃষক এবং গ্রামে থাকি। কৃষকরা কী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তা আমি দেখি। ডিলাররা যাই বলুক না কেন, রাজশাহীতে সারের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে ট্রিপল সুপারফসফেট (টিএসপি)-এর সরবরাহ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ী বারবার সার পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়লেও সামান্য জরিমানা দিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। নিজ এলাকার একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাধিকবার সার পাচারের দায়ে এক ডিলারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের শাস্তি অনিয়ম রোধে যথেষ্ট নয় এবং এই ধরনের অনিয়মে জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। সার চুরি বা আত্মসাতের দায়ে ধরা পড়া ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

চাঁদ আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু ডিলার নিজেরা ব্যবসা পরিচালনা না করে তাদের ডিলারশিপগুলো অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন বা হস্তান্তর করেছেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের ব্যবস্থার তদন্ত করতে এবং ডিলারশিপের শর্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান।

তিনি রাজশাহীতে টিএসপি বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে চাঁদ বলেন, পেঁয়াজ ও রসুন চাষের জন্য এই সারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মকারী ডিলারদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্চতর জরিমানা আরোপ এবং প্রয়োজনে বিদ্যমান বিধি সংশোধন করা হোক। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও চলতি মৌসুমের জন্য সারের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

এর জবাবে কৃষিমন্ত্রী সার সংকটের অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এখানে কখনও সারের সংকট ছিল না। এখন কোনো সংকট নেই, এবং আগামী দিনেও এর কোনো সম্ভাবনা নেই।

তবে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউরিয়া-বহির্ভূত সার, বিশেষ করে ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি)-এর চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, ডিএপি, টিএসপি এবং মিউরেট অফ পটাশ (এমওপি)-এর ঘাটতির ঝুঁকি বেশি, কারণ প্রতিবেশী দেশগুলোতে এগুলোর দাম বেশি হওয়ায় আন্তঃসীমান্ত চোরাচালানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সীমান্ত দিয়ে সারের অবৈধ চলাচল রোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে বারবার সারের চালান জব্দ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, যেসব ডিলার সময়মতো তাদের বরাদ্দকৃত সার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের খেলাপী হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্য কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ডিলারদের তাদের ডিলারশিপ ভাড়া দেওয়া বা হস্তান্তর করার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, সরকারি নিয়ম ও শর্তাবলি অনুযায়ী এ ধরনের ব্যবস্থা নিষিদ্ধ।

সার ডিলারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন না করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ‘ডিফল্টার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কোনো ডিলার যদি দুর্নীতিতে জড়িত হয় কিংবা সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে লাইসেন্স অন্য কারো কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করে, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন যে, চলতি মৌসুমে ডিলারদের প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যে সারের দোকান খুলতে হবে এবং বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার আগে দোকান বন্ধ করা যাবে না।

রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, আরএমপির কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ৮ জেলার সার ডিলার সমিতির নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   সারের ঘাটতি  অভিযোগ  সংসদ সদস্যের  অস্বীকার  কৃষিমন্ত্রী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: