শিহাব আলী। ছবি : সংগৃহীতঅসুস্থ বাবার চিকিৎসা আর পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে অটোরিকশা চালাত রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কিশোর শিহাব আলী (১৫)। অভাবের সংসারে বাবার অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়েই চলত পরিবারের খরচ।
কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি সে। প্রায় তিন দিন পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর একটি ধানখেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মরদেহ।
পরিবারের অভিযোগ, অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিল শিহাব। অটোরিকশাটি এখনো উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে শিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে উপজেলার ২ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়নের কলিপুর গ্রামের একটি ধানখেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে স্বজনেরা সেখানে গিয়ে শিহাবের মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহত শিহাব গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে ওই গ্রামের মো. সোহেল আলীর বড় ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার পর বাবার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় শিহাব। রাতে বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরিচিতজনদের কাছেও তার সন্ধান চান তারা। পরদিনও কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা গোদাগাড়ী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরও তার সন্ধান মেলেনি।
শিহাবের বাবা মো. সোহেল আলী ডায়াবেটিস ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে সংসারের আর্থিক সংকট সামাল দিতে বাবার অটোরিকশা চালানোর দায়িত্ব নেয় শিহাব।
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শিহাব ছিল সবার বড়। তার ছোট ভাই সিফাতের বয়স ১২ বছর এবং বোন মোসা. সিনথিয়া খাতুনের বয়স ১০ বছর। কিশোর বয়সেই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হয়ে উঠেছিল সে। অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করত, তা দিয়ে অসুস্থ বাবা, ছোট ভাই-বোনসহ পরিবারের খরচ চালানোর চেষ্টা করত।
পরিবারের কাছে শিহাব ছিল শুধু একজন সন্তান বা বড় ভাই নয়, ছিল সংসারের একমাত্র ভরসা। তার এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।
শিহাবের স্বজনদের আশঙ্কা, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুজন মিঞা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিহাবকে হত্যা করা হয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। শিহাবের অটোরিকশাটি এখনো উদ্ধার হয়নি। সেটি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/জোই