প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ পিএম আপডেট: ৩১.১০.২০২৬ ৩:৪৫ পিএম
সোনাভান বিবি। ছবি : সংগৃহীত রাজবাড়ীতে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অতর্কিত হামলায় প্রধান বাবুর্চির পর এবার তার সহকারী সোনাভান বিবিও (৭০) মারা গেছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান কাদরীয়া খানকা শরীফের রন্ধনশালায় এ ঘটনা ঘটে।
রন্ধনশালায় আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি খাবার চান। খাবার দিতে সামান্য দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি রন্ধনশালায় থাকা রান্নার লাঠি দিয়ে প্রধান বাবুর্চি মো. ফজের আলী (৭০) ও তার সহকারী সোনাভান বিবিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
নিহত ফজের আলী সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকার মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। নিহত সোনাভান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর সিদ্দিক কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন বাবুর্চি ফজের আলী ও তার সহকারী। এ সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি তাদের কাছে খাবার চান। তখন বাবুর্চি তাকে জানান, শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার পরিবেশন শেষ হলে তাকে খাবার দেওয়া হবে। এ কথা শুনে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
একপর্যায়ে রান্নাঘরে থাকা লাকড়ি দিয়ে তিনি বাবুর্চি ও তার সহকারীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. রোমেল হাসান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ফজের আলী সরদারের মৃত্যু হয়। অপর আহত ব্যক্তি সোনাবান বিবির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং এরপর ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারী মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আটক করে। বর্তমানে তার পরিচয় শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন