প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
শেরপুর থানা। ছবি : সময়ের আলোবগুড়ার শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা গ্রহণ ও আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে মামলা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তা অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন।
অন্যদিকে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
গত ২৩ অক্টোবর শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ মর্জিনা খাতুন (৩২) ২৫ অক্টোবর তার স্বামী রেজাউল করিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবাস কেনার জন্য স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহার দেওয়ার পর মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ তুলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের সঙ্গে দেনদরবার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তবে সাংবাদিকরা সরাসরি এ বিষয়ে বাদী মরজিনা খাতুনের বক্তব্য চাইলে তার প্রতিনিধি জানান, তিনি অসুস্থ কথা বলতে পারবেন না।
অভিযোগের বিষয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলাম। পরে ঢাকায় কাজ থাকায় কয়েক দিন থানার বাইরে ছিলাম। বাদী অসুস্থ থাকায় বাদীর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়। বিবাদীর বাড়িতে গেলে তার তালাবদ্ধ পাই। তথ্য অনুসন্ধানের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলি। বিবাদীর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি এবং বিবাদীকে গ্রেফতারের পূর্বে আমি কখনও দেখিও নাই। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এছারা আমার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের কথা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী একজন উপপরিদর্শক নিজের ক্ষমতায় কোনো অভিযোগকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে পারেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সময়ের আলো/জোই