প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম
আট দফা দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছবি : সংগৃহীতচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মৃত্যুর পর ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় এ সেতু নির্মাণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ ও সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এলাকায় লরির ধাক্কায় একটি বাস উল্টে যায়। এতে আইআইইউসির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহত হন। আহত হন আরও দুইজন।
এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সংশ্লিষ্ট দফত গুলোর মাধ্যমে কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসন।
দুর্ঘটনাস্থলে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে চিঠি পাঠায় জেলা প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় পরদিনই সেখানে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
পাশাপাশি মহাসড়ক ও রেললাইনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবৈধ পার্কিং ও দখল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। কেডিএস ডিপোসহ মহাসড়কের দুই পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অবৈধ দখল ও অনিয়মের দায়ে ১৫টি মামলায় মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির মালিকপক্ষকে শনাক্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা করেছেন। অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করে করা এ মামলার নম্বর ১১।
অভিযুক্ত চালককে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন