বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়ছে চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজনেস

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থনীতির বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বাংলাদেশের। গত এক দশকে দেশের বিদেশি ঋণের

2026-11-07T23:20:21+00:00
2026-11-07T23:20:21+00:00
 
  শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজনেস
বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাড়ছে চাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থনীতির বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বাংলাদেশের। গত এক দশকে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসেবে দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে বাড়ছে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের ব্যয়, যা আগামী দিনে অর্থনীতির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

ঋণের বড় অংশ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে : বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২ হাজার ২৬৩ কোটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।

এ ছাড়া জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশের কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার পাওনা রয়েছে। সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার। স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।

বাড়ছে ঋণ পরিশোধের ব্যয় : বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও পরিশোধ সক্ষমতার কিছু সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক সহনীয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) বিপরীতে বিদেশি ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ। তবে রফতানি আয়ের বিপরীতে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের অনুপাত কমে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ রফতানি থেকে অর্জিত প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে ১৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে ঋণ পরিশোধে।


অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ১১০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০১ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারে। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণের বেশি।

আগামী দিনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় এগিয়ে আসছে। এসব ঋণের বড় অংশের অর্থ জাপানকে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   বিদেশি ঋণ  পরিশোধ  বাড়ছে চাপ 


Advertisement
Loading...
Loading...
বিজনেস- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: