করোনায় সঙ্কটে ৬৪ শতাংশ মাছ চাষি

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষ পাতা

মহামারি করোনায় ৬৪ শতাংশ মৎস্য চাষি পড়েছে মহাসঙ্কটে। তারা জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় দূরত্বের স্থানগুলোতে খামারিদের

2021-04-22T00:00:00+00:00
2021-04-22T00:00:00+00:00
 
  সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শেষ পাতা
করোনায় সঙ্কটে ৬৪ শতাংশ মাছ চাষি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম 
মহামারি করোনায় ৬৪ শতাংশ মৎস্য চাষি পড়েছে মহাসঙ্কটে। তারা জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় দূরত্বের স্থানগুলোতে খামারিদের মধ্যে মাছের খাবার, মৎস্যজাত দ্রব্য ও পোনা সরবরাহে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে মৎস্য উৎপাদন। তা ছাড়া মাছের খাবারের বাড়তি মূল্য মারাত্মক সঙ্কট হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে গেছে। ফলে চাষিরা কম দামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এর প্রভাবে মাছ চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও মৎস্য খাত বাংলাদেশে এখনও ‘বড় সম্ভাবনা ও সুযোগ’ হিসেবে বিবেচিত।
বুধবার অনলাইন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাকুয়াকালচার সেক্টর স্টাডি বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা সমীক্ষা প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিজনেস কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লারিভ ইন্টারন্যাশনাল ও লাইটক্যাসল পার্টনার্স যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এই গবেষণা সমীক্ষা করা হয়। মাছ চাষি, বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি ৫০ জনের বেশি ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ও মতামতের ভিত্তিতে এই সমীক্ষা করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েজ ও নেদারলান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ। আরও বক্তব্য রাখেন লারিভ ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর ম্যাথিয়াস বিনেন, লাইটক্যাসল পার্টনার্সের পরিচালক জাহেদ আমিন, একই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র বিজনেস কনসালট্যান্ট সাইফ নজরুল প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ এই খাত সংশ্লিষ্ট নেতারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ শতাংশ কৃষক জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় দূরত্বের স্থানগুলোতে খামারিদের মধ্যে মাছের খাবার, মৎস্যজাত দ্রব্য ও পোনা সরবরাহে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে মৎস্য উৎপাদন। আবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তা বাজারে কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তদুপরি এ পরিস্থিতিতে মাছের খাবারের দাম মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।
সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২১ সালের চলতি এপ্রিল নাগাদ এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। তবে গত বছরের মাঝামাঝি কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ বেড়ে গেলে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে বেশিরভাগ প্রজাতির মাছের দাম কোভিড পরিস্থিতির আগের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশ কমে যায়। আর এপ্রিল-মে মাসটা ছিল দেশে তুলনামূলক বেশি কোভিড সংক্রমণকাল। এ পরিস্থিতিতে ৩৭ শতাংশ কৃষক মনে করে, ওই সময়ে তাদের ৫০-১০০ শতাংশ মূল আয় কমতে থাকে। ৫১ শতাংশ কৃষক মনে করে, এ সময়ে তাদের আয়-ব্যয় সমান্তরালে ১-৫০ শতাংশ হয়, মাত্র ১০ শতাংশ তেমন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪.৩৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করে। এর ৫০ শতাংশের বেশি আসে চাষ করার মাধ্যমে। তাই এই খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা মাছ চাষিদের ব্যাংকঋণ প্রদান, সরকারি প্রণোদনা বাড়ানো ও তা সঠিকভাবে কার্যকর করা, মাছের খাবার দাম কমানো, মাছ চাষিদের বাস্তব উপযোগী প্রশিক্ষণ, সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: